অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ কাহিনিঃ সাইদুল করিম

অস্ট্রেলিয়া দেশটা ঘুরে বেড়ানোর জন্য এক আদর্শ জায়গা তাই পৃথিবীর প্রায় সব দেশ থেকে প্রতি বছর পর্যটকেরা অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে এসে ভীড় জমান আর এখানকার আকর্ষণীয় স্থান গুলো ঘুরে দেখেন। ২০১৪ সালে আমেরিকা থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচলাখ আর ইংল্যান্ড থেকে সাড়ে ছয়লাখ পর্যটক অস্ট্রেলিয়ায় বেড়াতে এসেছিলেন। তাই এই দেশ ঘোরার পর আমার অভিজ্ঞতা ভ্রমণপিপাসু পাঠকদের জানাচ্ছি। অস্ট্রেলিয়ার যে যে জায়গাগুলো অন্যান্য দেশ থেকে আসা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় সেই স্থান গুলোর বিবরণ এখানে দেওয়ার চেষ্টা করব, অস্ট্রেলিয়ার লোকজনেরা তাদের দেশের পরিবেশ নিয়ে খুবই সচেতন, তাই এখানে যেকোনো এয়ারপোর্টে নামলে প্রত্যেক যাত্রীকে Biosecurity র মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। অন্য দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আসার সময় কোন রকম খাবার, কাঠের বা চামড়ার জিনিস, নিজেদের খাবার ওষুধ ( Doctor’s prescription থাকতে হবে) ছাড়া অন্য ওষুধ, কোন রকমের গাছ বা বীজ ইত্যাদি আনা যাবে না।

দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে সিডনি, মেলবোর্ন , ব্রিসবেন, এডেলেড, তাসমানিয়া ডারউইন পার্থ ও গোন্ডকোস্ট অন্যতম। রাজধানী হচ্ছে ক্যানবেরায়।
এরমধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসের রাজধানী সিডনি সবচেয়ে প্রাচীন ও বৃহত্তম এবং ব্যস্ত শহর। পাহাড় কেটে তৈরি এই শহরকে ঘিরে রয়েছে মনোরেল।

পাহাড়ি এলাকা বলে এখানকার পথঘাট ও অবস্থান বেশ উঁচু-নিচু। চারপাশে মানুষজনের ছুটোছুটি আর ব্যস্ততা হলেও তাদের রয়েছে এক অদ্ভূত শৃঙ্খলা বোধ। উন্নত জীবনযাত্রার মধ্যে আছে মার্জিত আচরণ এবং সহযোগিতার প্রবণতা।

এ অঞ্চলের আবহাওয়ার চিত্র ঠিক বাংলাদেশের বিপরীতে। বাংলাদেশে যখন শীত অনুভূত হয় অস্ট্রেলিয়ায় তখন প্রচণ্ড গরম।

নভেম্বরে সিডনি থাকে পর্যটক মুখর। এমনিতেই এই মহানগরে বিভিন্ন জাতির বসবাস, এরমধ্যে পর্যটকের পদচারণা আরও বর্ণময় করে তুলেছে এই শহরকে।

ফলে ট্রেন-বাস কিংবা ফুটপাথে দেখে কাউকে বুঝার উপায় নেই যে কে কোন দেশের মানুষ। কান পাতলে শোনা যাবে-সঙ্গীদের সঙ্গে কেউ কথা বলছে চীনা ভাষা, কেউ ফরাসি বা হিন্দিতে, কেউ বা অকৃত্রিম বাংলায়। ইংরেজি ভাষাভাষী তো আছেই।

সিডনির কিছু স্মৃতি কোনো দিনই মন থেকে মোছা যাবে না। কেননা এই শহরেই এসে প্রথম দেখেছি প্রশান্ত মহাসাগরের বন্ডাই বিচে। নীল জল, ঢেউগুলো অনেকটা বঙ্গোপসাগরের মতোই, তবু যেন কেমন অন্য রকম!

পৃথিবীর মোট স্থলভূমিকে যে মহাসমুদ্রটা ঢেকে দিতে পারে, যার অতল গহ্বরে ডুবে যাবে মাউন্ট এভারেস্ট, তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালে গা ছমছম না করে কী পারে? আমারও তাই হলো! তবে দেখি অনেক লোক নিশ্চিন্তে জলে নেমে খুবই উপভোগ করছে, এরমধ্যেই আকস্মিক সাইরেন বে‍জে উঠলো– হাঙর আসছে! হুড়মুড়িয়ে সবাই তীরে উঠতে লাগলো। লাইফ বোটগুলোও বেশ সজাগ।

Harbar Bridge

সিডনি বন্দর ও পোতাশ্রয় হচ্ছে প্রাকৃতিক। শহরের বিভিন্ন অংশে প্রশান্ত মহাসাগরের বা খাঁড়ির বিভিন্ন অংশ ডালপালা মেলেছে। ফলে এই অপূর্ব শহরের প্রায় সর্বত্র প্রশান্ত মহাসাগরের দেখা মেলে।

সিডনি শহরে আর সিডনি থেকে ১৫-২০ km এর মধ্যে আকর্ষণীয় স্থানগুলি হোল সিডনি অপেরা হাউস, হারবার ব্রিজ, ডারলিং হারবার, সিডনি অ্যাকোয়ারিয়াম, অস্ট্রেলিয়ান ম্যারিটাইম মিউজিয়াম, টোরঙ্গা চিড়িয়াখানা, ম্যানলি বীচ যা ঘুরে দেখতে চার পাঁচ দিন লাগবে আর ১৭-১৮ km দূরে বণ্ডাই বীচ ঘুরে দেখতে একদিন। সিডনিতে থাকা খাওয়ার খরচ বেশী তাই সিডনি থেকে ৬০-৬৫ km পশ্চিমে উইন্ডসর অথবা রিচমনডে থাকলে কম খরচে থাকা যায়। খুব সুন্দর নিরিবিলি শহরতলি কাছেই রিচমনড রেলস্টেশন, দেড়ঘণ্টায় সিডনি পৌঁছে যাওয়া যায় এছাড়া যাতায়াতের জন্য বাস সার্ভিসও আছে।

এরপর আরও কয়েক বার দেখা হয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে। ম্যানলি কিংবা পাম বিচসহ অন্যান্য বিচগুলোতে। শহরের প্রায় ২০ কিলোমিটার জুড়ে কমপক্ষে ৩০টির মতো সৈকত আছে।

সিডনির অন্যতম আকর্ষন হচ্ছে পৃথিবী বিখ্যাত ‘সিডনি হারবার ব্রিজ’। বিশ্বের একক স্প্যান বিশিষ্ট সবচেয়ে প্রশস্ত সেতু এটি। যা ঘুরে বেশ ভালো লেগেছে।

স্টিলের তৈরি এ ব্রিজের আয়তন প্রায় ১ হাজার ১৪৯ মিটার। ১৯২৩ সালের ২৮ জুলাই শুরু হয়ে কাজ শেষ হয় ১৯৩২ সালের ১৯ জানুয়ারিতে।

এবার আসি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত অপেরা হাউজের কথায়। বিশ্বের অন্যতম সুন্দর নির্মাণ শৈলী সিডনি অপেরা হাউজ। অসাধারণ স্থাপত্যে নির্মিত হাউজটি দেখলে মনে হয় পানির ওপর ভাসমান কয়েকটি নৌকার সফেদ পাল। আবার মনে হতে পারে শ্বেতশুভ্র বিশাল রাজহাঁসের ঝাঁক! তেইশ তলা সমান উঁচু এই অপূর্ব ভবনটিতে দুই হাজার ছয়শ নব্বইটি আসনসহ একটি কনসার্ট হল, একটি ড্রামা থিয়েটার ও একটি প্লে-হাউজ রয়েছে। বাইরের চত্বরটিও বিস্তৃত ও সুদৃশ্য।

একদিন সকালে বেরিয়ে পড়লাম মাদাম তুসোর মোমের জাদুঘর দেখতে। মোমের মিউজিয়াম, ওয়াইল্ড লাইফ ও অ্যাকুইরিয়ামও দেখলাম। চমৎকার! মিউজিয়ামে ঢুকতেই চোখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া নামের এই সুন্দর দ্বীপটির আবিষ্কারক ক্যাপ্টেন কুকের মোমের মূর্তি।

পুরো কক্ষজুড়ে জাহাজের মোটা দড়ি-পাল, কাঠের বিশাল স্টিয়ারিং সাজানো। মনে হয় এইমাত্র ক্যাপ্টেন কুক অস্ট্রেলিয়ার অস্তিত্ব আবিষ্কার করলেন!

ভেতরে রয়েছে আরও বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের মোমের মূর্তি। অ্যাকুইরিয়ামে রয়েছে বিশেষ বিশেষ প্রজাতির মাছ। কোরাল শোভিত অ্যাকুইরিয়ামও বেশ আকর্ষণীয়। অক্টোপাস, জেলিফিশ আরও কত নাম না জানা মাছের সমাহার।

ওয়াইল্ড লাইফ যেন এক বিস্ময়কর ভুবন। কী নেই এই রাজ্যে! সাপ খোপ, বিশাল অলস কুমির, গুইসাপ, গিরগিটি, মাঠময় বিচরণ করছে ইমু পাখি, অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত প্রাণী ক্যাঙ্গারু।

আর গাছের ডালে জড়ো সড়ো হয়ে বসে আছে লাজুক কোয়ালা, কচি পাতা খায় আর জুলজুল করে তাকিয়ে থাকে ভয়াতুর চোখ মেলে। একদিন বিকেলে তিমি দর্শনে গেলাম সমুদ্রে। বেশ উত্তেজনাকর ভ্রমণ ছিল এটা।

প্রথমে কিছুই টের পাইনি, ভেবেছি সহজেই আনন্দে ভাসতে ভাসতে তিমি দেখবো! দেশি-বিদেশি বৃদ্ধ,যুবা ও শিশু অনেক পর্যটকের সঙ্গে আমিও আনন্দিত মনে সমুদ্রের ঢেউ দেখছি।

ড্যানিশ স্থপতি জন অ্যাডজেনের নকশায় ১৯৫৯ সালে শুরু হয়ে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ১৯৭৩ সালে।

হাউজের ভেতরে গিয়ে দেখলাম, সারি সারি গ্যালারি জুড়ে অসংখ্য শ্রোতা-দর্শককের ভিড়। টিকিট কেটে নির্দিষ্ট আসনে গিয়ে আমিও বসলাম। শুরু হল অপূর্ব সুর লহরী।

Inside Sydney Opera House

Sydney Opera House : অপেরা হাউসটি ১৮৩মি লম্বা ১২০মি চওড়া আর ৬৫মি উঁচু। কনসার্ট হল, ড্রামা থিয়েটার, প্লেহাউস, স্টুডিও সব মিলে ৫৭৩৮ জন লোক ধরে। এই অপেরা হাউসে স্টেজের পিছনে আর দুই ধারেও বসার ব্যবস্থা আছে। Olli Mustonen, Bach & Shostakovich তাদের Orchestra নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছিলেন সিডনিওপেরা হাউসে লাইভ পারফর্ম করতে। Mr. Mustonen Finland এর লোক আর সাধারণত পিয়ানো বাজান তবে তিনি একাধারে Composer, Pianist এবং Conductor। পৃথিবীর প্রায় সব নামকরা Orchestra র সঙ্গেই কাজ করেছেন, যার মধ্যে Berlin Philharmonic, Chicago Symphony আর New York Philharmonic অন্যতম। আজকের কনসার্টে Mr. Mustonen বাজালেন গ্র্যান্ড পিয়ানো, সঙ্গে ৯ জন Violin, ৩ জন Viola, ৩ জন Cello নিয়ে আর Oboe, Flute, Harp, Clarinet, Basoon ও Percussion এ একজন করে। মন্ত্রমুগ্ধ হোয়ে শুনলাম সুরের মূর্ছনা। Mr. Mustonen তাঁর দুই হাতের দশটি আঙ্গুল পিয়ানোর রীডের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে কি অবলীলাক্রমে চালনা করলেন, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। তাঁর সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে ১৫ জন বাদ্য যন্ত্রশিল্পীর ছোট বড় বেহালা আর অন্যান্য যন্ত্রের দলবদ্ধ সুরের সংযোজনা। পাঠকরা যখন বেড়াতে আসবেন তখন সিডনি অপেরা হাউসে কোন Orchestra বাDrama অনুষ্ঠিত হোলে নিশ্চয়ই দেখে নেবেন, তা নাহল অপেরা হাউসের ভিতরটা দেখতে পাবেন না।

Manly Beach : সিডনি শহরে Circular Quay থেকে পাবলিক ফেরি কোরে ম্যানলি বীচে পৌঁছতে ৩০ মিনিট লাগে, ফেরিতে ৩০ মিনিটের এই সমুদ্রযাত্রাটা পর্যটকেরা খুবই উপভোগ করেন। ম্যানলি বীচে কিছু স্যুভেনিরের দোকান, খাবারের দোকান আর Shelley নামে আরেকটা Beach আছে। পর্যটকেরা সাধারণত সকালবেলা ফেরিতে চাপেন, ম্যানলি পৌঁছে কাছাকাছি জায়গাগুলো ঘুরে দেখেন। যারা সার্ফিং কোরতে ভালোবাসেন তারা সমুদ্রের জলে নেমে পড়েন, কিছু লোকজন কিছুটা সময় বীচে কাটান, ইচ্ছে হোলে চা বা কফি খেতে পারেন আর অনেকেই লাঞ্চ কোরে আবার ফেরি চেপে ফিরে আসেন।

Richmond Park

Richmond : রিচমন্ড শহরতলিকে ১২০km দীর্ঘ হক্সবেরি নদীর শহরও বলা হয় আর এখান থেকে Blue Mountain Range টা দেখা যায়। মর্নিং অথবা ইভনিং Walking এর জন্য প্রায় 3 কিলোমিটার লম্বা আর ৫০০ মিটার চওড়া ‘ফ্রেন্ডশিপ’ পার্ক। হাটার জন্য এক মিটার চওড়া বাধানো রাস্তা আর সাইক্লিং এর জন্য দুই মিটার বাধানো রাস্তা,পাশাপাশি করা আছে। এখানে সাইক্লিং করাটা খুবই জনপ্রিয়। পার্কের মধ্যে ১০ টা Gym।nstrument সাধারণ মানুষের Exercise করার জন্য আর ১০ টা।nstrument প্রতিবন্ধীদের Wheel Chair এ বসেই করার জন্য। পার্কের ভিতরে বড় বড় অস্ট্রেলিয়ান বীচ, কাররি, নানা জাতের ইউক্যালিপটাস, পাইন, সাদা ও লাল রঙের বটল ব্রাশ আরও নানান রকমের গাছ আছে, গাছের গুড়িগুলো দেখে বোঝা যায়, কিছু কিছু গাছের বয়স ৫০-৬০ বছরের উপর। এছাড়া রিচমন্ড ষ্টেশনের সামনেই বিরাট রিচমন্ড পার্কও আছে।
ভারতে জন্মায় এমন গাছের মধ্যে রক্তকরবী, শ্বেতকরবী, কামিনী আর কাঞ্চনফুলের গাছ দেখা যায়। কিছু গাছের পাতা শীত বা গ্রীষ্মকালে ঝরে যায় আর কিছুদিন পরে বিভিন্ন রঙের ফুলে গাছ ভরে ওঠে। এখানে কয়েকটা খেজুর গাছ দেখলাম, প্রায় ৩০-৪০ ফুট লম্বা আর গাছের গুঁড়িটা বেশ মোটা, গাছে প্রচুর খেজুর ফলে আছে। গরমকালে গাছের তলায় মাটিতে খেজুর পড়ে থাকে, শাঁস খুব কম, গাছের গুঁড়িতে নাম লেখা ‘Canary।sland Date Plum’।

Blue Mountain : সিডনি থেকে Blue Mountain এর দূরত্ব ৬০ km আর পৌঁছতে লাগবে এক থেকে দেড় ঘণ্টা, সকালবেলা বেড়িয়ে সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে আসা যায়। যারা প্রকৃতির শোভা দেখতে ভালো বাসেন তাদের জন্য সিডনির অন্যতম দর্শনীয় স্থান এই Blue Mountain Range, ৯৬ km লম্বা আর প্রায় ১১,৪০০ sq km জায়গা জুড়ে, 2000 সালে UNESCO দ্বারা ঘোষিত World Heritage Area। সিডনি থেকে গাড়িতে ২ ঘণ্টা লাগে, এই জায়গায় এলে প্রকৃতি অনুরাগীরা চোখ ফেরাতে পারবেন না। সবুজে ঘেরা বিশাল নীলাভ পাহাড়, বিরল জাতের উঁচু উঁচু গাছ, কাটুমবা জলপ্রপাত, বিভিন্ন প্রজাতির পাখির এক অনবদ্য মিলনস্থল। এখানে নানান জাতের ইউক্যালিপটাস গাছ আছে তারমধ্যে ব্লু গাম গাছ প্রায় ১২০-১৫০ ফুট উঁচু হয় আর এর পাতা থেকে ইউক্যালিপটাস তেল তৈরি হয়, পাতা হারবাল চায়ে ব্যবহার হয় আর এই গাছের ফুল থেকে মধু হয় তবে তার গন্ধটা খুবই তীব্র। এছাড়া ব্লু মাউনটেনের জঙ্গলে প্রচুর অ্যাস আর ফার্ন গাছ দেখা যায়, ব্লু মাউনটেনের এই অ্যাস গাছ থেকে খুব সহজেই বুশ ফায়ারের সম্ভাবনা থাকে। রোদবৃষ্টি, ঝড়, বরফের দাপট আর প্রতিকূল আবহাওয়ায় ব্লু মাউনটেন পাহাড়ের কিছুটা অংশ এমনভাবে রূপান্তরিত হয়েছে, দেখলে মনে হবে যেন তিনজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় লোকেদের দেওয়া নামে এরা Three Sisters বোলে বিখ্যাত। অন্য দেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে Blue Mountain আর Three Sisters বিশেষভাবে আকর্ষণীয়।

Merimbula : সমুদ্রের লাগোয়া মেরিম্বুলা শহর পর্যটকদের কাছে আরেক আকর্ষণীয় স্থান,আমরা ঘুরে এসেছি। সিডনি থেকে গাড়িতে ৫৩০ km, প্রিন্সেস হাইওয়ে দিয়ে যেতে লাগবে ছয় ঘণ্টার মতো। মেরিম্বুলা নামে একটা বড় লেকও আছে, তারই পাশে গড়ে উঠেছে মেরিম্বুলা শহর। কাছাকাছি ঘুরেফিরে দেখার জন্য আরও পাঁচটা বীচ আছে, মেরিম্বুলা, মিচিস জেটি, বার, স্পেনসার পার্ক, আর শর্ট পয়েন্ট। অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী অ্যাবরিজিনিদের কথায় মেরিম্বুলা মানে ‘দুটো লেক’। মেরিম্বুলা আরও দুটি কারণে বিখ্যাত, এক এখানকার রক অয়েসটার খুবই উপাদেয় খাদ্য আর দুই জুনমাসের লং উইক এন্ডে জাজ ফেস্টিভ্যাল। এছাড়া লেকে মাছ ধরা, তিমিমাছ দেখা, উইন্ড সারফিং তো আছেই। এতটা রাস্তা গাড়ি চালানোর মাঝে কিছুটা বিশ্রামের দরকার তাই দুপুরের লাঞ্চটা ‘গোউলবার্নে’ সেরে নিলে ভাল। এখানে ‘বিগমেরিনো’ নামে বিশাল কনক্রিটের ভেড়ার আকারে দোতলা একটি দোকান আছে প্রায় ৫০ফুট উঁচু, একতলায় গিফট শপ আর দোতলায় উলের শোরুম। এই জায়গায় কয়েকটা খাবারের দোকানও আছে তাই গাড়ী বা বাসে করে যারা মেরিম্বুলা বেড়াতে আসেন তারা এইখানে কিছুক্ষণের জন্য থামেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বিগমেরিনোর নাম দিয়েছেন ‘র‍্যা মবো’, প্রায় সব পর্যটকেরাই র‍্যা মবোর ছবি তোলেন আর পছন্দের জিনিসপত্র কেনাকাটার পর খাওয়াদাওয়া করে আবার চলতে শুরু করেন।

Merimbula Lake

মেরিম্বুলায় লেকের কাছেই অনেক হোটেল পাওয়া যায় থাকার জন্য। কিচেনে রান্না করার জন্য সব রকমের জোগাড় থাকে, জিনিসপত্র কিনে এনে একআধ দিন রান্না কোরে খাওয়া যেতে পারে। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে হোটেলের কাছেই মেরিম্বুলা লেকে ঘুরে আসতে পারা যায়। ‘কায়াক’ আর ‘ক্যানো’ এই দু রকমের ছোট ছোট নৌকায় চড়ে অনেকেই লেকে ঘুরে বেড়ায়। যারা মাছ ধরতে ভালবাসেন তাঁরা ছিপ নিয়ে বসে পড়েন, আমি একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এই লেকে কি কি মাছ পাওয়া যায়। উত্তরে বলেছিলেন স্ন্যাপার, স্যামন, ফ্ল্যাটহেড আর বারাকোউটা মাছ অনেক সময়েই পাওয়া যায়। কাছেই ষ্টীমার জেটির বোর্ডে লেখা ছয়ঘন্টা মোটরচালিত নৌকাভাড়া করে গভীরজলে মাছধরার ব্যবস্থা করা হয়, মাছের ছবিও টাঙ্গানো রয়েছে, এক একটা মাছ আট দশ কেজি ওজনেরও হয়। সকাল ৯ টা নাগাদ সিডনি থেকে বেড়িয়ে বিকাল চারটে নাগাদ মেরিম্বুলা পৌঁছান যায়, দুটো রাত মেরিম্বুলায় থেকে জায়গাটা ঘুরে নিয়ে ওখান থেকে ক্যানবেরা যাওয়াই সুবিধা।

Canbera : মেরিম্বুলা থেকে ক্যানবেরা দূরত্ব ২৪০ km আর যেতে সময় নেবে সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো, তাই মেরিম্বুলায় বেড়াতে এলে এখান থেকে ক্যানবেরা ঘুরে নেওয়া ভাল। মেরিম্বুলা থেকে লাঞ্চ কোরে বেরোলে মাঝে আর কোথায় না থেমে বিকাল পাঁচটা নাগাদ ক্যানবেরা পৌঁছান যায়। অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা, এ শহরে ঢোকার আগে প্রায় ১০-১২ km রাস্তাটা একদম সোজা চোখে পরার মতো। অস্ট্রেলিয়ায় বেড়াতে এলে সে দেশের রাজধানী সুযোগ পেলে সবাই ঘুরে দেখতে চায়। এখানে Australian War Memorial এক দর্শনীয় স্থান যার উদ্বোধন হয়েছিলো ১৯৪১ সালে। এটি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় মিলিটারি সংগ্রহশালা আর পৃথিবীর অন্যতম। Museum টির তিনটি ভাগ, Commemorative Area (Shrine ), Memorial’s Galleries (Meseum ) আর Research Centre (Records)। এছাড়া Meseum এর বাইরে আছে Sculpture Garden। War Memorial রোজ সকাল দশটায় খোলে আর পাঁচটায় বন্ধ হয়, এখানে যে সমস্ত মূল্যবান জিনিষ সংগ্রহ কোরে রাখা আছে সেগুলো ঘুরেফিরে দেখার জন্য সারাটা দিন এখানে কাটান যায়।

Australian War Memorial Building

ক্যানবেরায় পার্লামেন্ট হাউসটিও ঘুরে দেখার মতো, এই বাড়িটার ছাদ থেকে ক্যানবেরা শহরটার প্রায় সবটাই দেখা যায় আর পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম Stainless Steel Structure এর উপর ৮১ m উঁচু ফ্ল্যাগমাস্টটি খুব কাছ থেকে দেখা যায়। পর্যটকেরা Guided Tour এর মাধ্যমে অথবা নিজেরাও পুরো হাউসটি ঘুরে দেখতে পারেন। খ্রিস্টমাস ডে ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৯ টায় খোলে আর ৫ টায় বন্ধ হয়, পার্লামেন্ট হাউসটি দেখতে কোন দর্শনী লাগে না। যারা শিল্পকলা কর্ম দেখতে পছন্দ করেন তাঁরা ক্যানবেরার National Gallery of Australia ঘুরে দেখতে পারেন, কারণ এটি অস্ট্রেলিয়ায় সর্ববৃহৎ। এই মিউজিয়ামে দেড়লক্ষের উপর শিল্পসামগ্রী সংগ্রহ কোরে রাখা আছে।

Wisemans Ferry : পাঠকরা যদি রিচমণ্ডে থাকেন তবে এখান থেকে ৫০ km দূরে ‘ওয়াইজম্যানস ফেরী’ নিশ্চয়ই দেখবেন, আমরা এক রবিবার সকালে চা খেয়ে বেড়িয়ে পড়লাম জায়গাটা দেখবো আর ফেরী চড়বো বোলে, গাড়িতে চল্লিশ মিনিটের পথ। এই জায়গাটার আগে নাম ছিল ‘লোয়ার পোর্টল্যান্ড হেডল্যান্ড’, সলোমন ওয়াইজম্যান’ নামে এক কয়েদী ১৮৭১ সালে গভর্নর ম্যাকুয়ারির কাছথেকে এই জায়গায় কিছুটা জমি পেয়েছিলেন। নিজে কয়েদী ছিলেন তাই জেলের কয়েদীদের অসুবিধার কথা ভেবে খাবার ও অন্যান্য জিনিসপত্র জেলে তাড়াতাড়ি পৌঁছে দেবার জন্য ১৮২৭ সালে ওয়াইজম্যান এখানকার হক্সবেরী নদীর উপরে ফেরী সার্ভিস চালু করেন। এই মহৎ কাজের করার জন্য পরে অনেকেই ওয়াইজম্যানকে হক্সবেরীর রাজা বলে ডাকতো।

Picnic Spot near Wisemans Ferry

আমরা ১১ টা নাগাদ ফেরিঘাটে পৌঁছলাম, একটা ফেরী ছাড়বো ছাড়বো করছে দেখে আমরা সকলে গাড়ী সমেত ফেরীতে চেপে পড়লাম, এখানে দুটো ফেরী আছে একটা বড় যেটা ২৪ টা মোটরগাড়ী আর ছোটটা ১৮ গাড়ী নিয়ে নদী পারাপার করে। চালকের সঙ্গে কথা বলে জানলাম বছরে ৩৬৫ দিনই এই ফেরী চলাচল করে, দরকার হলে একসঙ্গে দুটো ফেরীও চলাচল করে। এই জায়গায় নদী প্রায় ১২০০ ফুট চওড়া, চার মিনিট লাগলো নদীর এপার থেকে ওপারে যেতে। ওপারে কয়েকটা পিকনিকের জায়গা আছে, যেখানে বসার জন্য বেঞ্চ, টয়লেট, বারবিকিউ ইত্যাদির ব্যাবস্থাও আছে। উইকএন্ডে অনেকেই সপরিবারে এখানে চলে আসেন, সারাটা দিন কাটিয়ে যান আর একটা পিকনিকের ভাল জায়গা দেখলাম হক্সবেরী নদীর পাড়ে। অনেকে সাইকেলে করেও এসেছেন, সাইকেলে বা পায়ে হেঁটে জায়গাটা ঘুরে দেখছেন। অস্ট্রেলিয়ায় সাইক্লিং করার সময় হেলমেট পরা নিয়ম – না পরলে পুলিশ জরিমানা করবে।

Coffs Harbour : এটি একটি উপকূলবর্তী শহর আর পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয় স্থান, জায়গাটা সিডনী থেকে ৫৪০ km দূরে সমুদ্রের পাড়েই ছোট একটি শহর। কিছুদিন আগে পর্যন্ত কফস হারবারের অর্থনীতিতে কলার চাষই প্রধান ছিল আর এরজন্য এই শহরের বড় একটা অংশকে বলাহতো ‘Banana Coast’। এখন BlueBerry র চাষ, Tourism, Fishing।ndustry কলার আগে জায়গা করে নিয়েছে।
সিডনি থেকে Coffs Harbour যেতে প্রায় ৬ ঘণ্টা লাগে, তাই সকাল ৯ টার সময় আমরা বেড়িয়ে পড়লাম, Richmond থেকেও যাওয়া যায়। ১২ টা নাগাদ মাঝ রাস্তায় নেলসান বে তে পৌঁছলাম যেটা Tomaree National Park এর মধ্যে পড়ে। অনেক পর্যটক Nelson Bay তে আসেন ডলফিন আর তিমি মাছ দেখার জন্য, অনেকে আবার মাছ ধরতে বা সারফিং, ডাইভিং করতে। একটানা গাড়ি না চালিয়ে ১৫০km রাস্তা চলার পর কোন একটা ক্যাফেতে বসে কফি খেয়ে আবার বেড়িয়ে পরা ভালো। এরপরে পোর্ট ম্যাকুয়ারে থেমে, ওখানেই লাঞ্চ কোরে নেওয়া যায়। ১৮১৮ সালে নিউ সাউথ ওয়েলসের গভর্নর লাছলান ম্যাকুয়ারের নামে এই জায়গার নামকরণ হয়। ১৮২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় সর্বপ্রথম আখের চাষ এইখানেই শুরু হয়। প্রতিবছর জুনমাসের প্রথম সপ্তাহে ‘অস্ট্রেলিয়া মাউনটেন বাইক ফেস্টিভ্যাল’ এখানে অনুষ্ঠিত হয় আর অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক প্রতিযোগী সেইসময় পোর্ট ম্যাকুয়ারে এসে ভিড় করে। আড়াইটের সময় আমরা পোর্ট ম্যাকুয়ারে পৌঁছেগেলাম আর একটা পাবে হালকা লাঞ্চ করলাম। এখান থেকে আর এক ঘণ্টা লাগবে কফস হারবার পৌঁছতে, তিনটের সময় আবার বেড়িয়ে পরলাম। কিছুটা পথ যাবার পর, রাস্তার উপর সাইনবোর্ডে লেখা ‘ Roadwork ahead, Reduce Speed’। Speed Restriction, ৮০km এর জায়গায় ৬০ বা কোথাও ৪০ kmph এ গাড়ী চালাতে হবে।

এবার Port Macquarie লেখা সাইনবোর্ড দেখা যাচ্ছে, আগে থেকে ঠিক করা হোটেলে ফোন করা হোল। রিশেপসান থেকে জিজ্ঞাসা করলো আমরা Big Banana পৌঁছেছি কিনা, ঠিকই তো।nformation Booklet এ পড়েছিলাম Big Banana নামে একটা Amusement Park আছে যেটা মেইন রাস্তার উপর। খাবার জায়গা, স্যুভেনির ইত্যাদির এক দোকানের সামনে বিশাল ‘এক কলা’, লম্বায় প্রায় ৫০ফুট, ৮ফুট চওড়া আর ৭ফুট উঁচু আর বড় বড় কোরে লেখা Big Banana।

Port Macquarie প্রচুর কলার চাষ হয় তাই কলাবাগান দেখার জন্য আলাদা ট্যুরেরও ব্যবস্থা আছে। সকালে ব্রেক ফাস্ট করে প্রথমে Big Banana দেখতে গেলাম, স্যুভেনিরের দোকানে ঢুকে দেখি কলার মডেলে নানান রকমের গিফট আইটেম আর ঘর সাজানোর জিনিস। কলা থেকে তৈরি নানারকম খাবার জিনিষও আছে অনেকে খাবার চেখে দেখছেন আর পছন্দ মতো কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পর্যটকেরা এই জায়গার স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে কলার আকারে ফ্রিজ ম্যাগনেট, কলার ছবি দিয়ে গেঞ্জি ও টুপি ইত্যাদি কেনাকটা করছেন আর দেখলাম ‘বড়কলা’ র ছবি তুলতে সবাই ব্যস্ত। Coffs Harbour শহরের আশেপাশে কয়েকটা ন্যাশানাল পার্ক, রিসার্ভ পার্ক আর মেরিন পার্কও আছে ঘুরে দেখার জন্য।

New Castle : এরপর New Castle শহরটা ঘুরে দেখার, এখানে দু এক দিন থাকতে খুবই ভালো লাগবে। সিডনি থেকে ১৭০km দূরে, গাড়িতে যেতে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা লাগে। সমুদ্রের উপরেই বোলে এখানকার গড় তাপমাত্রা সবথেকে কম ১৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড আর সব থেকে বেশী ২২। এই শহর হান্টার নদীর খুবই কাছে আর প্রসিদ্ধ হান্টার ভ্যালির মধ্যে। New Castle শহর কয়লাখনি, আঙ্গুরের ক্ষেত আর ওয়াইনারির জন্য বিখ্যাত, এখানে White আর Red দুরকমের ওয়াইনই তৈরি হয়।

একটা লং উইকএন্ডে আমরা New Castle পৌঁছেগেলাম, সেদিন মেঘলা আকাশ ছিল খুব একটা গরম নেই। হোটেলের কাছেই বীচ তাই জিনিষপত্র হোটেলে রেখে সমুদ্রের পারে চলে এলাম। অনেক পর্যটক এসেছেন বীচে, কেউ কেউ বালির উপর শুয়ে রৌদ্রস্নান করছেন আর বেশ কিছু মহিলা ও পুরুষ তাঁদের বাচ্চাদের নিয়ে সমুদ্রের জলে নেমে পড়েছেন। এখানে বাচ্চাদের খুব ছোট বয়স থেকেই জলে নামানো হয় যাতে জলে নামার ভয়টা কেটে যায়। স্কুলের গণ্ডীপার হওয়ার আগেই ছেলেমেয়েরা ভালভাবে সাঁতার শিখে যায় আর পরে সাঁতার, সার্ফিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে।

New Castle এর বীচে এলে বড় বড় জাহাজ দেখা যায়, কারণ ১৭৯৭ সালে এখানে কয়লাখনি আবিষ্কার হওয়ার পরথেকেই নিউক্যাসেল থেকে কয়লা ভর্তি জাহাজ চলাচল শুরু হয় আর New Castle এখন পৃথিবীর বৃহত্তম কয়লা রপ্তানির বন্দর। Hunter Valley এলাকার মাটীর নীচে প্রচুর পরিমাণে কয়লা মজুত আছে, এখানে আর এক কয়লা বন্দরের নাম Port Kembla।

Vine Yard।n New Castle

New Castle এলে একদিন আঙ্গুরের ক্ষেত আর Winery দেখতে অবশ্যই যাবেন, বিশাল জায়গা নিয়ে আঙ্গুরের ক্ষেত তার সঙ্গে Winery আর নানারকম Wine বিক্রির দোকান। পর্যটকরা এলে তাঁদের বিনামূল্যে Wine চেখে দেখতে দেওয়া হয়, ভালো লাগলে কিনুন না কিনলেও কোন অসুবিধা নেই। কয়েক জায়গায় পাঁচ ছ ঘণ্টার Winery Tour এর ব্যবস্থাও আছে যেখানে তিন চারটে Winery ঘুরে দেখাবার ব্যবস্থা থাকে। পর্যটকদের কাছে এই ট্যুর খুবই আকর্ষণীয়, দেখলাম পঞ্চাশ ষাট জনের একটা দল এসে ঢুকল আর তারপর Wine চেখে দেখার জন্য হুড়াহুড়ি পরে গেলো। অনেক বিদেশী পর্যটক Hunter Valley তে বেড়াতে আসেন যারা আঙ্গুর ক্ষেতের মধ্যেই বিলাসবহুল হোটেলে থাকতে ভালোবাসেন, কয়েকটা Winery ঘুরে ঘুরে দেখেন আর তাদের নিজেদের পছন্দমত খাবারের সঙ্গে নানা স্বাদের Wine খেয়ে ঘুরে বেড়িয়ে ছুটি কাটিয়ে যান।

Taronga Zoo : অস্ট্রেলিয়ায় টরোঙ্গা চিড়িয়াখানার খুব নামডাক আছে তাই একদিন সকালবেলা এখানকার পশু পক্ষীদের দেখতে বেড়িয়ে পড়া যায়। চিড়িয়াখানাটা সিডনি শহরের মধ্যে আর হারবারের পারে, এটি ১৯১৬ সালে উদ্বোধন হয়েছিল। প্রায় ৫২ একর জায়গা জুড়ে এই চিড়িয়াখানাতে ৩৪০ প্রজাতির প্রায় ৪০০০ রকমের জন্তু জানোয়ার পশু পক্ষী আছে। এরই মধ্যে ক্যাফে, দোকান, ইনফরমেশন সেন্টার আছে, পর্যটকদের কোন কিছু জানার থাকলে ভলেনটিয়াররা হাসিমুখে উত্তর দিয়েদেন। টিকিট ঘরের পাশেই বড় বোর্ডে চিড়িয়াখানার ম্যাপ, যাদেখে পশু পাখীরা কোথায় আছে বোঝা যায় আর তাদের দেখে নেওয়ার একটা ছক কষা যায়।

Great Ocean Road Memorial Arch

Great Ocean Road : বিদেশী পর্যটকদের কাছে আর এক আকর্ষণীয় স্থান Great Ocean Road, সিডনি থেকে প্রায় ১০০০km দূরে। বিশ্বযুদ্ধ ১ থেকে ফেরা সৈন্যরা ১৯১৯-১৯৩২ সালে এই রাস্তা তৈরি কোরে যুদ্ধে নিহত সৈন্যদের স্মৃতির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন, এটি পৃথিবীর সবথেকে বড় স্মৃতি সৌধ। অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণপূর্বে সমুদ্রের পার বরাবর ২৪০km এই রাস্তা ১৯৩২ সালে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

Apostles on way to Great Ocean Road

সমুদ্রের পার দিয়ে এই রাস্তায় যাওয়ার সময় দেখা যায় সমুদ্রের জল কোথাও নীল থেকে ঘন নীল আবার কোথাও হালকা সবুজ, অপূর্ব এই সমুদ্রের রূপ নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। জলের মধ্যে সমুদ্রের ধারে আরেক বিস্ময়কর দেখার জিনিষ হোল ১২ টা ‘Apostle’, সমুদ্রের পারের চুনা পাথরের বেশ কিছুটা অংশ ঝড়, সমুদ্রের ঢেউ আর প্রতিকূল আবহাওয়ায় ক্ষয়ে গিয়ে অদ্ভুত আকার ধারণ করেছে। হঠাৎ দেখলে মনে হবে কিছু লোকজন বা কয়েকটা উঁচু বাড়ি জলের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে, স্থানীয় লোকজন মনে করেন এঁরা দেবদূত। ১২ টার মধ্যে এখন ৮ টা Apostle দেখা যায়, ২০০৫ সালে নবম Apostle টি অদ্ভুতভাবে জলের তোড়ে হঠাৎ ভেঙ্গে পরে। অনেক পর্যটকদের দেখলাম Apostle দের ছবি ক্যামেরাবন্দি কোরে রাখছেন।

Bondai Beach : অস্ট্রেলিয়ায় বেড়াতে এসে বণ্ডাইবীচ না দেখলে ঘোরাটাই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। বণ্ডাইবীচ সিডনি থেকে মাত্র ৮ km দূরে, সিডনি থেকে ট্রেন আর বাসে কোরেও আসাযায়।পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় এই সমুদ্রতট। বণ্ডাই বীচে বেড়াতে এলে Fish and Chips নিশ্চয়ই খাবেন, এখানে খুবই জনপ্রিয় আর মুখরোচক খাবার। অ্যাবরিজিনিদের কাছে বণ্ডাই কথার মানে পাথরের উপর জল আছড়ে পরার শব্দ। অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় রাগবি খেলার National League Competition এখানেই হয়। প্রতি বছর অগাস্ট মাসে ১৪km City to Surf Fun Run বণ্ডাই বীচে এসে শেষ হয়, ৬০০০০- ৬৫০০০ প্রতিযোগী এই দৌড়ে অংশগ্রহণ করেন। অনেক আইরিশ আর ব্রিটিশ পর্যটকরা ক্রিস্টমাস দিবস বণ্ডাইবীচে এসে পালন করেন। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম Short Film Festival ‘ Flickerfest’ প্রতি বৎসর জানুয়ারি মাসে বণ্ডাইবীচে অনুষ্ঠিত হয়। ১৯০৭ সালে ‘ Bondi Surf Bathers’ Life Saving Club’ স্থাপিত হয় যা পৃথিবীর সর্বপ্রথম Surf Life Saving Club। অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সমুদ্রতটে প্রচুর লোকজন জলে নামেন সার্ফিং বা সাঁতার কাটার জন্য। অসাবধানতায় অনেক সময় কিছু মানুষ ডুবে যান, অসুস্থ হোয়ে পড়েন। অনেকে আবার সমুদ্রের হাঙ্গরের শিকার হন, যেকোনো বিপদের সময়ে লাইফ সেভিং ক্লাবের সভ্যরা তাঁদের উদ্ধার ও নানা ভাবে সাহায্য করেন। অস্ট্রেলিয়ায় সার্ফিং খুব জনপ্রিয় জলক্রীড়া তাই প্রায় সব বীচেই লাইফ সেভিং ক্লাবের ভলেনটিয়াররা সমুদ্রে যেখানে বেশী জল বা বিপদগ্রস্ত এলাকাতে লাল ফ্ল্যাগ লাগিয়ে পর্যটকদের সতর্ক কোরে দেন আর কেউ বিপদে পড়লে তাঁদের উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *