নিউইয়র্কের ভ্রমণকাহিনীঃঃ সাইদুল করিম

নিউ ইয়র্ক শহর, যার সরকারী নাম সিটি অফ নিউ ইয়র্ক (ইংরেজি: City of New York) ও প্রচলিত কথ্য নাম নিউ ইয়র্ক সিটি (New York City),  সবারই স্বপ্ন থাকে ইউরোপীয় দেশ গুলোতে যেতে আমারো অনেক বার সুযোগ হয়েছে তাই আজ শেয়ার করব আপনাদের মাঝে, আগেই বলে নেই নিউইয়র্কে ঘুরতে এসেই অর্ধাঙ্গিনীর সাথে পরিচয় হয়, নিউইয়র্কেই আমাদের বিবাহ হয়। এবার কথা না বাড়িয়ে আসল কথায় আসি।


আমার যাত্রা শুরু হয় ব্রিটিশ এয়ারলাইনস এ প্লেনে বসে সাত-আট ঘণ্টার জার্নিটা খুব বেশি গায়ে লাগে না। মুভি দেখে, খেয়ে-দেয়ে আর কষ্টে-শিষ্টে একটা ঘুম দিয়ে সময়টা ভালোই কেটে যায়। কিন্তু জার্নিটা যদি হয় ২০ ঘণ্টার তবে সময় কাটানোটাই একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। ট্রানজিট ব্রেকসহ ভ্রমণ ক্লান্তিতে বিধ্বস্ত হয়ে বাইরে এসে দাঁড়ালাম তখন দেখি নিউইয়র্কের আকাশে মেঘের আনাগোনা, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। মধ্য জুলাইয়ের যে দুঃসহ গরমের কথা শুনেছিলাম সেরকম গরম মনে হল না। কিন্তু সেই মনে হওয়াটা ছিল ক্ষণস্থায়ী! ইয়েলো ট্যাক্সি ক্যাবে করে যখন বাসায় পৌঁছলাম তখন বৃষ্টি থেমে গেছে এবং স্বরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। যতবার নিউইয়র্কে এসেছি সব সময় বরফে ঢাকা নিউইয়র্ক পেয়েছি,

নিউইয়র্কে একদা আমার নিজেস্ব ব্যবসা ছিল সেখানে একদা এক সময় প্রিয় কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিৎ এসেছিলেন


ওয়াশিংটন ডিসিঃ ‘কোনো দেশকে ভালো বুঝতে হলে অবশ্যই তার রাজধানীতে যেতে হবে’ এ রকম কথা কোনো মনিষী বলে গেছেন কিনা জানি না, তবে ঠিক করলাম ওয়াশিংটন ডিসি ভ্রমণ করতে হবে। আমেরিকার রাজধানীর প্রাচীন নাম ছিলো ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া’। বর্তমানে এটি ওয়াশিংটন ডিসি নামে পরিচিত। ডিসি মূলত পূর্ব নাম ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া’র সংক্ষিপ্ত রূপ। মেরিল্যান্ড এবং ভার্জিনিয়া স্টেট’র কিছু অংশ নিয়ে ১৭৯০ সালে আমেরিকার প্রথম রাজধানী ‘ফিলাডেলফিয়া’ কে ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানান্তর করা হয়। এটি কোনো স্টেটের অংশ না, একটি স্বতন্ত্র টেরিটরি।


পোটোম্যাক নদীর তীরে অবস্থিত ওয়াশিংটন ডিসির জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসীরা কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না, একথা হয়তো অনেকেই জানেন  না।
ওয়াশিংটন ডিসি একেবারে কোলাহলমুক্ত শহর। এ শহরের আয়তন মাত্র ৬৮ বর্গমাইল বা ১৭৭ বর্গাকিলোমিটার। বিশালাকার রাস্তা আর বড় বড় দালান-কোঠা দিয়ে  সুসজ্জিত। তবে এদের কোনটিই খুব উঁচু নয়। প্রতিটি দালানের সাথে মার্কিনিদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। ইউএসএ’র অন্যসব বড় বড় শহরে সব দালানগুলো বেড়েছে উপরের দিকে। কিন্তু এই ওয়াশিংটন ডিসিতে সেটা বেড়েছে পাশের দিকে বা প্রস্থের দিকে। অত্যন্ত রুচিশীল আর আধুনিক নির্মাণশৈলীর দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাগুলোই বলে দেয় এই শহর বিশেষ একটা কিছু।


পেন্টাগনের কথাই ধরা যাক, ফ্লোর’র আয়তনে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অফিস, প্রায় আশিটি ফুটবল মাঠের সমান এবং পঁচিশ হাজারের বেশি মানুষ এখানে কাজ করের। আসলে পেন্টাগন নিজেই যেনো একটা ছোটো শহর।

ইউএস পার্লামেন্ট ভবনের নাম ক্যাপিটাল হল। ক্যাপিটাল হিলের চারদিকেই প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর। ক্যাপিটাল হিলে পর্যটকদের ঘুরে দেখার সুযোগ আছে। ইউএস ক্যাপিট‍ালের পাশেই রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি-‘লাইব্রেরি অব কংগ্রেস’। এখানে রাখা আছে প্রায় আড়াই কোটি পুস্তক।


১৬০০ পেনসিলভ্যানিয়া অ্যাভিনিউ, ওয়াশিংটন ডিসি, এই ঠিকানা যে ত্রিতল বাড়িটির, তার নাম হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক বাসভবন। এই বাসভবনটি ১৭৯২ থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর থেকে সব রাষ্ট্রপতিরই বাসভবন হয়ে ওঠে এটি, একমাত্র জর্জ ওয়াশিংটন ছাড়া, যিনি ছিলেন এর রূপকার।

১৮১২ সালে শুরু হয় ইংল্যান্ড-আমেরিকা যুদ্ধ। এই যুদ্ধ চলাকালে ১৮১৪ সালের ২৪ আগস্ট ব্রিটিশ সেনাবাহিনী হোয়াইট হাউস দখল করে নেয়। সে সময় তারা পুরো ভবন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। নকশাকার জেমস হোবানের পরা


‘কোনো দেশকে ভালো বুঝতে হলে অবশ্যই তার রাজধানীতে যেতে হবে’ এ রকম কথা কোনো মনিষী বলে গেছেন কিনা জানি না, তবে ঠিক করলাম ওয়াশিংটন ডিসি ভ্রমণ করতে হবে।

নিউ ইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন ডিসির দূরত্ব বাসে প্রায় ৪-৫ ঘণ্টার পথ। বিগ বাস ট্যুর। কাজেই ‘খোলা টপ ডেক’ ওয়াশিংটন ডিসি দেখার সবচেয়ে ভালো এবং সহজ উপায়। তাই আমি ওয়াশিংটন সফরের জন্য বিগ বাস’র ‘হপ অন হপ অফ ডবল ডেকার বাস’ এ চেপে বসেছিলাম।


আমেরিকার রাজধানীর প্রাচীন নাম ছিলো ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া’। বর্তমানে এটি ওয়াশিংটন ডিসি নামে পরিচিত। ডিসি মূলত পূর্ব নাম ‘ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়া’র সংক্ষিপ্ত রূপ।


মেরিল্যান্ড এবং ভার্জিনিয়া স্টেট’র কিছু অংশ নিয়ে ১৭৯০ সালে আমেরিকার প্রথম রাজধানী ‘ফিলাডেলফিয়া’ কে ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানান্তর করা হয়। এটি কোনো স্টেটের অংশ না, একটি স্বতন্ত্র টেরিটরি।

পোটোম্যাক নদীর তীরে অবস্থিত ওয়াশিংটন ডিসির জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। ওয়াশিংটন ডিসির অধিবাসীরা কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না, একথা হয়তো অনেকেই জানেন  না।

একটি জরিপে দেখা গেছে, খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ৮০ শতাংশ মানুষ এ বিষয়টি জানেন না। ডিসি ভোট নামের একটি সংগঠন গত দশ বছর ধরে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করছে। বর্তমানে এই সংগঠন ওয়াশিংটন ডিসির ভোটাধিকার নামের একটি বিল পাস করানোর জন্য চেষ্টা করছে।



ওয়াশিংটন ডিসি একেবারে কোলাহলমুক্ত শহর। এ শহরের আয়তন মাত্র ৬৮ বর্গমাইল বা ১৭৭ বর্গাকিলোমিটার। বিশালাকার রাস্তা আর বড় বড় দালান-কোঠা দিয়ে  সুসজ্জিত। তবে এদের কোনটিই খুব উঁচু নয়। প্রতিটি দালানের সাথে মার্কিনিদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। ইউএসএ’র অন্যসব বড় বড় শহরে সব দালানগুলো বেড়েছে উপরের দিকে। কিন্তু এই ওয়াশিংটন ডিসিতে সেটা বেড়েছে পাশের দিকে বা প্রস্থের দিকে। অত্যন্ত রুচিশীল আর আধুনিক নির্মাণশৈলীর দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাগুলোই বলে দেয় এই শহর বিশেষ একটা কিছু।

পেন্টাগনের কথাই ধরা যাক, ফ্লোর’র আয়তনে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অফিস, প্রায় আশিটি ফুটবল মাঠের সমান এবং পঁচিশ হাজারের বেশি মানুষ এখানে কাজ করের। আসলে পেন্টাগন নিজেই যেনো একটা ছোটো শহর।

ইউএস পার্লামেন্ট ভবনের নাম ক্যাপিটাল হল। ক্যাপিটাল হিলের চারদিকেই প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর। ক্যাপিটাল হিলে পর্যটকদের ঘুরে দেখার সুযোগ আছে। ইউএস ক্যাপিট‍ালের পাশেই রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লাইব্রেরি-‘লাইব্রেরি অব কংগ্রেস’। এখানে রাখা আছে প্রায় আড়াই কোটি পুস্তক।

১৬০০ পেনসিলভ্যানিয়া অ্যাভিনিউ, ওয়াশিংটন ডিসি, এই ঠিকানা যে ত্রিতল বাড়িটির, তার নাম হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দাপ্তরিক বাসভবন। এই বাসভবনটি ১৭৯২ থেকে ১৮০০ সালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। স্বাধীনতার পর থেকে সব রাষ্ট্রপতিরই বাসভবন হয়ে ওঠে এটি, একমাত্র জর্জ ওয়াশিংটন ছাড়া, যিনি ছিলেন এর রূপকার।

১৮১২ সালে শুরু হয় ইংল্যান্ড-আমেরিকা যুদ্ধ। এই যুদ্ধ চলাকালে ১৮১৪ সালের ২৪ আগস্ট ব্রিটিশ সেনাবাহিনী হোয়াইট হাউস দখল করে নেয়। সে সময় তারা পুরো ভবন আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়।

নকশাকার জেমস হোবানের পরামর্শ নিয়ে আমেরিকানরা আবার সেই আগুনে পোড়া ভবনের সংস্কার কাজ শুরু করে।


ভবনটির বিভিন্ন জায়গায় আগুন ও ধোঁয়ার দাগ ঢাকতে এর দেয়ালে সাদা রঙ করা হয়। সেই থেকে মূলত এটি ‘হোয়াইট হাউস’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে থাকে। এই নামের স্বীকৃতি পেতে সময় লাগে আরও ৮৫ বছর। ১৯০২ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থিয়েডোর রুজভেল্ট এই নামের স্বীকৃতি দেন। তখন থেকে সরকারিভাবে এর নামকরণ করা হয় ‘হোয়াইট হাউস’।


ওয়াশিংটর ডিসির প্রতিটি ভবনই দেখার মতো। ন্যাশনাল মল এখানকার সবচে বড় পার্ক, যেটি ডাউন টাউনে লিংকন মেমোরিয়াল ও ইউনাইটেড স্টেস ক্যাপিটালের মাঝামাঝিতে অবস্থিত। রাজনীতিবিদরা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে এই মল ব্যবহার করে থাকেন। বিভিন্ন মৌসুমে মেলা, ফেস্টিভ্যাল বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের ব্যবহার করা হয় এই ন্যাশনাল মল। ওয়াশিংটন ডিসিতে এক ডজনেরও বেশি জাদুঘর আছে। ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব আমেরিকান হিস্ট্রি, বড় জাদুঘরগুলোর মধ্যে একটি। এ যাদুঘরের সংগ্রহের মধ্যে আছে ৩ মিলিয়নেরও বেশি ঐতিহাসিক নিদর্শন। এটির মোট আয়তন প্রায় ৭৫০,০০০ বর্গফুট। মাদাম মিউজিয়ামে আছে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মোমের তৈরি প্রেসিডেন্টের প্রতিকৃতি।

মার্কিন রাজধানী বলেই হয়তো মাদাম তুসোর এই শাখাটিতে মার্কিন রাষ্ট্রপতিদের আধিক্য। প্রত্যেকটি পুতুল বানানোর ক্ষেত্রে অবাক করার মত নৈপুণ্যের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় আসল মানুষ মনে করে ধাক্কা লাগবে বা বিরক্ত হবে ভেবে থেমে যাচ্ছিলাম। পরে দেখি এটাও মূর্তি।

জাদুঘরের  থেকে বের হবার ঠিক আগে দরজার ডানপাশে ল্যারি কিং দাঁড়ানো এবং বামপাশে একটি মেয়ে ল্যারি কিং এর মূর্তির ছবি তুলছে। ছবি তোলার সময় সামনে দিয়ে যাওয়া অভদ্রতা তাই অপেক্ষা করার একপর্যায়ে খেয়াল করলাম ছবি তুলতে থাকা মেয়েটিও আরেকটি মূর্তি।

ওয়াশিংটনে মহাকাশ জাদুঘর পরিদর্শন এক মনোরম অভিজ্ঞতা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক মার্কিন স্টিল্থ জঙ্গি বিমান পর্যন্ত অনেক কিছুর রেপ্লিকা রক্ষিত আছে এই জাদুঘরে।
ওয়াশিংটন মনুমেন্ট এই স্মৃতিস্তম্ভটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের স্মৃতিতে ১৮৮৪ সালে নির্মিত হয়। উচ্চতা ৫৫৫ ফুট। জর্জ ওয়াশিংটন’র মৃত্যুর পর ১০০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে এটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। ওয়াশিংটন ডিসি জুড়েও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য চেরি গাছ। বসন্তে সেখানেও ফোটে হাজার হাজার চেরি ফুল। সেই আনন্দে উৎসবে মাতে ওয়াশিংটন ডিসি।


ভার্জিনিয়ার পথেঃ আমেরিকার ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি স্বাধীন শহর, রাতের ভার্জিনিয়া অনেক সুন্দর মন কেড়ে নিবে সকলের।


আটলান্টিক সিটিঃ সুন্দর একটু জায়গা তবে এইটা ক্যাসিনোর শহরই বলা যায়, মাঝে মাঝে আমিও সখের বশে খেলতাম কিন্তু সব সময় না, তাহলে জেনে নেই ক্যাসিনো সম্পর্কে কিছু কথা, ধনীদের জায়গা এইটা, ক্যাসিনো মানেই টাকা উড়ানোর জায়গা। বিশ্বজুড়ে

রয়েছে এমন অসংখ্য ক্যাসিনো যেখানে জুয়ার নেশায় মেতে থাকেন জুয়াড়িরা। পৃথিবীর বহু দেশেই চলে জুয়া খেলার রমরমা ব্যবসা। আমেরিকা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, নেপালসহ অসংখ্য দেশে গড়ে উঠেছে টাকা উড়ানোর জায়গা। অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি খেলার ছলে মনোরঞ্জনের জন্য এসব ক্যাসিনোতে আসেন।

পোকার (জুজু খেলা), বাক্কারাট (বাজি ধরে তাস খেলা), রুলেট, পন্টুন, ফ্লাশ, বিট, ডিলার, ব্লাকজ্যাক এবং কার্ডস্লট মেশিনের খেলা ছাড়া মদের আসর বসে এসব ক্যাসিনোতে। ক্যাসিনোর কথা এলে শুরুতেই আসবে সিন সিটি লাসভেগাসের কথা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জুয়ার আসরটি এখানেই হয়ে থাকে। তবে লাসভেগাস ছাড়াও বিভিন্ন দেশেও নাম না জানা অনেক জুয়ার স্থান রয়েছে।

ক্যাসিনোর ইতিহাস

 বিশ্বের অনেক দেশেই ক্যাসিনোর প্রচলন থাকলেও এর সঠিক ইতিহাস জানা যায়নি। ক্যাসিনো ইতালীয় ভাষার শব্দ যার মূল ক্যাসা অর্থ ঘর। ক্যাসিনো বলতে ছোট ভিলা, গ্রীষ্মকালীন ঘর কিংবা সামাজিক ক্লাবকে বোঝানো হতো। ১৯ শতকের দিকে ক্যাসিনো বলতে এমনসব ভবনকে বোঝানো হতো যেখানে আনন্দদায়ক কাজকর্ম হতো যেমন নগরের সামাজিক অনুষ্ঠান যেখানে নাচ, গান, জুয়া ও ক্রীড়ার ব্যবস্থা থাকতো।  ইউরোপের ইতিহাসে ইতালিতে প্রথম ১৬৩৮ সালে ভেনিসে রিডোট্ট নামে এক ক্যাসিনো তৈরি করা হয়েছিল। তবে সামাজিক অবক্ষয়ের কথা ভেবে ১৭৭৪ সালে সেই শহরের প্রধান সেটি বন্ধ করে দেন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ক্যাসিনোর নাম স্যালুন্স। এটি তৈরি হয়েছিল পর্যটকদের জন্য। এখানে তারা জুয়ার সঙ্গে আড্ডা দেয়া, ড্রিংকস করার সুযোগ পেতেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এটি স্যান ফ্রান্সিকো, নিউ অরলিন্স, সেন্ট লুইস, শিকাগো শহরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে; ২০ শতকের দিকে ক্যাসিনো আমেরিকায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৩১ সালে আমেরিকার নেভাদা রাজ্যে সর্বপ্রথম সরকার অনুমোদিত ক্যাসিনো গড়ে ওঠে। বর্তমানে আটলান্টিক সিটি আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্যাসিনো শহর। বর্তমানে ক্যাসিনোর কথা উঠলে শুরুতেই আসবে সিন সিটি লাসভেগাসের কথা। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জুয়ার আসরটি এখানেই বসে থাকে।

তবে লাসভেগাস ছাড়াও বিভিন্ন দেশেও নাম না জানা অনেক জুয়ার আসর রয়েছে। কিন্তু টিভি-সিনেমায় দেখা যায়, লাস ভেগাসের ক্যাসিনোর তুলনায় সিঙ্গাপুরের ক্যাসিনোগুলো অনেক ভদ্র প্রকৃতির। ইদানীং এশিয়ার কয়েকটি দেশ এসব জুয়া খেলায় এগিয়ে। এশিয়ার ক্যাসিনোগুলো চুটিয়ে ব্যবসা করছে। এসব জায়গায় হরহামেশাই চলে জুয়ার বড় বড় দান। এশিয়া মহাদেশের নেপাল, ভারত, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এসব জুয়ার আসরে এগিয়ে। বালক থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সীদের দেখা মিলে এসব ক্যাসিনোতে। কোটি কোটি টাকা ওড়াতে আর মনোরঞ্জন করতে তারা এখানে আসে।
গন্তব্য টাইম স্কয়ার। টুরিস্টদের মেলা বসেছে এখানে, সাদা-কালো, বাদামি, ইয়োরোপিয়ান, এশিয়ান, আফ্রিকান, ওরিয়েন্টাল, সব রকমের মানুষ এখানে হাসি হাসি মুখ করে ক্যামেরা হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মিনিট পনের ঘুরে বেড়ালাম বিখ্যাত টাইম স্কয়ারে, সিনেমায় অনেক দেখেছি টাইম স্কয়ারে লোকজন কীভাবে নেচে-গেয়ে হাতে তালি দিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়। চারদিকে বড় বড় স্ক্রিনে চকচকে সব বিজ্ঞাপন। রঙিন আলোর ঝলকানি। রাস্তাঘাট একেবারেই মানব শূণ্য এখন।

স্ট্যাচু অব লিবার্টি সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য

আমরা সবাই মোটামুটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে অবস্থিত স্ট্যাচু অব লিবার্টি সম্পর্কে জানি। তবে, স্ট্যাচু অব লিবার্টি ঘিরে এমনই কিছু অজানা তথ্য রয়েছে যা আপনি হয়ত আগে জানতেন না!

প্রথমত, এই স্থাপনাটির আসল নাম কিন্তু স্ট্যাচু অব লিবার্টি না! এর নাম হল “এনলাইটেনিং দ্য ওয়ার্ল্ড”। একহাতে একটি মশাল এবং অপরহাতে একটি বই হাতে নিয়ে নিউ ইয়র্ক শহরে দাঁড়িয়ে আছে “স্ট্যাচু অব লিবার্টি” নামে বহুল পরিচিত এই স্থাপনাটি। এটি একহাত দিয়ে যে বইটি ধরে আছে সে বইয়ের ওপরে লেখা আছে একটি তারিখ, আর তা হল “৪ জুলাই, ১৭৭৬”।এই তারিখেই ব্রিটিশ শাসন থেকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন হয়েছিল!  

সে যাইহোক, ৯৩ মিটার লম্বা এই মূর্তিটির ওজন হল প্রায় ২০৪ মেট্রিক টন। পুরো মূর্তির মধ্যদিয়ে একটি সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে যেটা দিয়ে মাটি থেকে একদম ওপরের মশাল পর্যন্ত যাওয়া যায়। প্রতিবছর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ মানুষ স্ট্যাচু অব লিবার্টি দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে আসেন।

এই মূর্তিটির মাথায় অলংকারের মত দেখতে সাতটি সূচালো লোহা বের হয়ে আছে, এগুলো আদতে সাতটি মহাসমুদ্রের প্রতি ইঙ্গিত করেই তৈরি করা হয়েছে। স্থাপত্যশৈলীর এক চমৎকার এবং উৎকৃষ্ট উদাহরণ এই স্ট্যাচু অব লিবার্টি নামক মূর্তিটি ডিজাইন করেছিলেন ফ্রেডরিক আগাস্ট বার্থহোলডি নামক এক ফরাসি মূর্তি ডিজাইনার।পরবর্তীতে ১৮৮৬ সালে ফ্রান্সের সরকার মূর্তিটি দুইদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কটি আরো জোরাল করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে উপহারস্বরূপ প্রদান করে।

এর মজার একটি তথ্য হল যে ব্যক্তি এর ডিজাইন করেছিলেন তিনি তার নিজের মা ক্যারলোটের আদলে এই মূর্তিটির চেহারা তৈরি করেছিলেন। ১৯৮৪ সালের দিকে এই মূর্তিটির মশালটি পরিবর্তন করা হয়েছিল। পূর্বের সাধারণ লোহার পরিবর্তে সেখানে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ দিয়ে তৈরি একটি মশাল প্রতিস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে ১৮৮৬ সালে যখন এই মূর্তিটি স্থাপন করা হয় তৎকালীন এই স্ট্যাচু অব লিবার্টি ছিল পৃথিবীর সবচাইতে বড় লোহার তৈরি মূর্তি।

এই স্ট্যাচুর আরেকটি মজার বিষয় হল ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে কোনও ঝড়ো বাতাস যখন এই মূর্তির গায়ে আছড়ে পড়ে তখন মূর্তিটি ৩ ইঞ্চি ও টর্চটি ৫ ইঞ্চি পর্যন্ত নড়তে থাকে।

এছাড়া প্রতিবছর স্ট্যাচু অফ লিবার্টি প্রায় ৬০০ বজ্রপাত সহ্য করে টিকে আছে। আর এই চমৎকার দৃশ্যটি ২০১০ সালের দিকে একজন ফটোগ্রাফার তার ক্যামেরায় বন্দি করেছিলেন। আর যে দ্বীপটিতে স্ট্যাচুটি রাখা আছে তার নাম ছিল “বেডলে আইল্যান্ড”, তবে ১৯৫৬ সালের দিকে এই দ্বীপের নাম পরিবর্তন করে “লিবার্টি আইল্যান্ড” নামে নামকরণ করা হয়।

সেসময়ে এই মূর্তিটি তৈরি করতে প্রায় পাঁচ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ খরচ হয়েছিল, যার বর্তমান মূল্য দশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এদিকে স্ট্যাচু অব লিবার্টিকে ইমিগ্রেশন এর প্রতীকও বলা হয়ে থাকে, কেননা উনিশ শতকের দিকে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ সমুদ্রপথে যখন যুক্তরাষ্ট্র পাড়ি জমান তখন এই মূর্তিটির সবার প্রথমে চোখে পড়ত।

স্ট্যাচু অফ লিবার্টি ঘিরে দু’টি দুঃখজনক ঘটনাও রয়েছে, আর সেটা হল এপর্যন্ত দুইজন মানুষ স্ট্যাচু অফ লিবার্টি থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। দু’টো ঘটনাই কাছাকাছি সময়ে হয়েছিল, যারমধ্যে প্রথম ঘটনাটি ১৯২৯ সালে ও দ্বিতীয় আত্মহত্যার ঘটনাটি ১৯৩২ সালে হয়েছিল। বর্তমানে এই স্ট্যাচুর সিঁড়িটি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বন্ধ রাখা হয়েছে।


স্ট্যাচু অব লিবার্টিতে যাওয়ার ফেরিঘাটে নিয়ে এল, ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ২টার মতো। আমরা দূর থেকেই দেখলাম এক হাতে বই আর আরেক হাতে মশাল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বিখ্যাত মূর্তিকে। হাডসন নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা চমত্কার পার্কের পাশে গাড়ি থামানো হল

চলবে……..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *