নিষিদ্ধ শহর চীনের ভ্রমণ কথাঃ সাইদুল করিম

বিগত একদশকে ইউরোপ ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ ভ্রমনের সুযোগ পেয়েছি তারমধ্যে চীন ভ্রমনের থেকে বৈচিত্র্যময় ও ঘটনা বহুল জনসম্পদ, ভুখন্ড ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বর্তমান চীনের অবস্থান বিশ্ব পরিমন্ডলে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বায়নের এ যুগে দেশটি এখনও তার নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ বজায় রেখেছে। রাশিয়াতে কম্যুনিজমের পতন ঘটলেও এখনও চীন তার কম্যুনিজমের পতাকা শক্তভিজ্ঞতা নানা দিক হাতেই ধরে রেখেছেন। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার এক পঞ্চমাংশ চীনে বাস করেন। সমগ্র ইউরোপ ভূখন্ডের সমান চীন। চীন পৃথিবীর প্রাচীনতম জনপদের মধ্যে অন্যতম একটি। এসকল নানাদিক থেকে ইতিহাস সমৃদ্ধ এই দেশটি ।

আয়তনে চীন এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। এই সুবিশাল চীনে রয়েছে অসংখ্য পর্যটন স্থান। চীন ভ্রমণ গাইডে থাকবে চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান গুলোর বিস্তারিত। যাওয়ার উপায়, কি কি দেখবেন, কিভাবে দেখবেন, থাকার জন্যে হোটেল ও রিসোর্ট এর তথ্য, চীন ভ্রমণ খরচ এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণ টিপস।

বেইজিং এর অনেক নগর-উদ্যানের জন্য সুপরিচিত। গ্রীষ্মকালীন প্রাসাদটি এর সুন্দর নকশা করা বাগান , মন্দির ও সেতুর জন্য পরিচিত। তিয়েনতান উদ্যানটিতে স্বর্গের মন্দির অবস্থিত যেখানে চীনের সম্রাটরা প্রার্থনা করতেন। ১৭শ শতকে পেইহাই উদ্যানটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এখানে একটি বড় হ্রদ আছে যেখানে গ্রীষ্মকালে নৌকা ভ্রমণ করা যায় আর শীতকালে এটি বরফে জমাট বেঁধে গেলে এর উপরে অনেক মানুষ স্কেট করে।

২০১৬ সালে ২৮ কোটি ৪০ লক্ষ পর্যটক বেইজিং শহরে বেড়াতে আসেন। বেইজিং শহর পর্যটন খাতে ৫০ হাজার কোটি চীনা ইউয়ান মুদ্রা আয় করে, যা ছিল ঐ বছর শহরের স্থুল আভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ২০%। ২০১৭ সালে পর্যটক সংখ্যা, পর্যটন খাতে আয়, শহরের অর্থনীতিতে অবদান, বিদ্যমান পর্যটন অবকাঠামো ও যানবাহনের ভিত্তিতে বেইজিং শহরকে পর্যটন খাতে চীনের সেরা শহরের মর্যাদা দেওয়া হয়।

চীনের নিষিদ্ধ শহর– চীনের বেইজিং-এ অবস্থিত নিষিদ্ধ শহর (Forbidden City) বিশ্বের বৃহত্তম প্যালেস কমপ্লেক্স। নামটা নিষিদ্ধ হলেও এই শহরে প্রবেশের ব্যাপারে পর্যটকদের আগ্রহ একটু বেশীই।

চীনের নিষিদ্ধ শহর

ঘুরতে আসলে সাংস্কৃতিক তাৎপর্য পূর্ণ অপরূপ সৌন্দর্যের এই নগরীতে পা রাখবে না এমন পর্যটক পাওয়া মুশকিল। প্রতি বছর ১৪ মিলিয়ন পর্যটক ঘুরতে আসে এই ফরবিডেন সিটি দেখতে।

কেন এই নামকরন– ৫০০ বছর ধরে চীনের ২৪ জন সম্রাট ও তাদের পরিবারের আনুষ্ঠানিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রস্থল ছিল এই নগরী। চীনা মিং ও কিং সম্রাজ্যের সময় অনুমতি ছাড়া সাধারণ জনগনের এখানে প্রবেশ করা নিষেধ ছিল। সম্রাটের পরিবারের সদস্য ও দাওয়াত প্রাপ্ত উচ্চ কর্মকর্তাগনই শুধুমাত্র এখানে প্রবেশ করতে পারতো। এমনকি রাজপরিবারের কোন পুরুষ আত্মীয়ও এখানে আসতে পারতো না, মূলত সম্রাট তার পত্নি ও উপপত্নীদের বাইরের জগত থেকে সুরক্ষিত রাখার জন্যই এই শহরে সবার প্রবেশাধিকার মানা করে দিয়েছিলেন। আর এখন পুরো বিশ্বের মানুষ এখানে আসতে পারলেও সেই সময়ের ঘটনার পরিপেক্ষিতে এই নগরীর নামটা এখনো কার্যকর রয়েছে। যদিও এখনো এই নিষিদ্ধ নগরী পুরোপুরি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত না। আপাতত প্যালেসের ৬০ ভাগ পর্যটকরা ঘুরে দেখতে পারে। আর বাকি ৪০ ভাগে কাজ চলছে। ২০২০ সালের মধ্যে হয়তো প্যালেসের ৮০% জায়গা পর্যটকদের দেখার সুযোগ করে দেয়া হবে।

কিভাবে ঘুরবেন নিষিদ্ধ নগরী– বেইজিং (Beijing) শহরের কেন্দ্রে ১৮০ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই নগরীর আরেকটা নাম হল প্যালেস মিউজিয়াম। এখানে ৯০ টিরও বেশী প্রাসাদ, ৯৮০ টির মতো চত্বর ও ৮,৭২৮ টির মতো রুম আছে। মূলত এই প্যালেস না দেখলে কেউ সম্রাটদের মর্যাদা ও গৌরব সম্পর্কে বুঝতে পারবে না। বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর স্থাপত্যের এক অন্যন্য নিদর্শন এই নগরী। দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের জন্য ১৯৮৭ সালে এই প্যালেসকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

চীনের নিষিদ্ধ শহর

নিষিদ্ধ নগরী দুই ভাগে বিভক্ত। দক্ষিনের ভাগ মূলত বাইরের দিকের অংশ। এখানের সম্রাট বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজ করার সাথে সাথে জনসম্মুখে বিচার সালিশ করতো। পুরো কমপ্লেক্সের মধ্যে এই জায়গা পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য বেশ পছন্দের। আর উত্তরের
দিকের অংশ হল অভ্যন্তরীণ কোর্ট, এখানে সম্রাট নিজের পরিবার নিয়ে থাকতো।

এখানের প্রতিটি ভবনের খুঁটিনাটি জিনিস গুলো ভালো ভাবে খেয়াল করবেন, অদ্ভুত সুন্দর কারুকাজ, রঙের মিশ্রণ আর প্রতীকি কিছু বিষয় ফুটে উঠেছে, যা যেকোন পর্যটককে মুগ্ধ করার মতো। এখানের ভবনগুলোর মধ্যে গেট অফ গ্রেট হারমোনি, হল অফ গ্রেট হারমোনি, দা প্যালেস অফ হেভেনলি, দা হল অফ মেন্টাল কাল্টিভেশন, দা গেট অফ ডিভাইন মাইট, হল অফ প্রিজারভিং হারমোনি, দা হল অফ লিটারারি গ্লোরি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই জাদুঘরে কিং সম্রাজের বিশেষ কিছু জিনিস সংরক্ষিত আছে। যেমন- চিত্রশিল্প, সিরামিক্স, সিলস, ভাস্কর্য এবং ব্রোঞ্জ ও এনামেলের উপর খোঁদাই করা বিভিন্ন জিনিস। এখানে ঘুরার ক্ষেত্রে অনেকে গাইড সাথে নিয়ে ঘুরতে পছন্দ করে, সেই ক্ষেত্রে সুবিধা হল গাইড আপনাকে প্রতিটা ভবনের ইতিহাস জানাবে আবার অনেকে নিজে একটি গাইড বই নিয়ে ঘুরে ঘুরে পুরো জায়গার ইতিহাস জানতে পছন্দ করে। এখানকার ইম্পেরিয়াল গার্ডেনে ঘুরতেও বেশ ভালো লাগে পর্যটকদের।

চীনের নিষিদ্ধ শহর

যদি কেউ যায় এইভাবে যেতে পারেন- বেইজিং এর ভিতরে অবস্থিত এই নিষিদ্ধ শহরে যেতে পারেন বাস, সাবওয়ে কিংবা প্রাইভেট কারে। বাসে উঠে তিয়ানান ম্যান স্কোয়ারের উত্তর দিকে নামলেই নিষিদ্ধ নগরীতে ঢোকার দক্ষিনের গেট পাওয়া যাবে। মেট্রো রেলের চড়ে দুই ভাবে এই শহরে যাওয়া যায়। মেট্রো লাইন ১ এর ক্ষেত্রে, প্রথমে মেট্রো লাইনে তিয়ানানম্যান পশ্চিমে বা তিয়ানানম্যান পূর্বের ষ্টেশনে নামতে হবে, তারপর তিয়ানানম্যান টাওয়ার থেকে উত্তরে হাঁটলেই নিষিদ্ধ শহরের গেট অফ হেভেনলি পেয়ে যাবেন।

মেট্রো লাইন ২ এর ক্ষেত্রে, কিয়ানমেন স্টেশনে নেমে তিয়ানানম্যান টাওয়ার থেকে উত্তরে হাটলেই
প্যালেসে ঢোকার গেট পাবেন। এখানে প্রবেশের জন্য দুইটা গেট আছে, নিষিদ্ধ নগরীর
সামনের গেটকে মেরিডিয়ান গেট বলা হয়। এই গেট দিয়েই নগরীর ভিতরে যাওয়া ভালো তাতে গেট
অফ ডিভাইন থেকে এই প্যালেসের সাথের জিংশান পার্ক ঘুরে আসতে পারবেন।

সময়সূচী ও ফি– প্রতিদিন সকাল ৮.৩০ থেকে ৩.৩০ পর্যন্ত এই নগরী পর্যটকদের জন্য খোলা থাকে। গ্রীষ্মকালে ৩.৩০টা পর্যন্ত টিকেট বিক্রি হয়, দাম ৬০ চাইনিজ ইয়ুয়ান ( বাংলাদেশী টাকায় ৭৩৭ টাকা)। আর শীতকালে এখানে বিকাল ৩.৩০ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য টিকেট বিক্রি হয়, দাম ৪০ চাইনিজ ইয়ুয়ান (বাংলাদেশী টাকায় ৪৯২ টাকা)। এই প্যালেস প্রতি সপ্তাহের সোমবার বন্ধ থাকে।

চীনের সবচেয়ে প্রাচীন ইতিহাস ধারণকারী জায়গা হল গ্রেট ওয়াল বা চীনের মহা প্রাচীর (Great Wall of China)। দূর-দূরান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ পর্যটক এখানে আসে মধ্যযুগের সপ্তাশ্চর্য এই গ্রেট ওয়াল বা চীনের মহা প্রাচীর দেখতে।

গ্রেট ওয়াল বা চীনের মহা প্রাচীর (Great Wall of China)

গ্রেট ওয়ালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: মিং সম্রাজ্যের সময় চীন (Chaina) এবং দেশের নাগরিকদের বাইরের দেশের আক্রমন থেকে রক্ষার জন্য এই মহা প্রাচীর গড়ে তোলা হয়। এই প্রাচীর নির্মাণের সময় এখানে প্রায় ১০ লাখের বেশি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল তাই এই প্রাচীরকে পৃথিবীর দীর্ঘতম কবরস্থানও বলা হয়।

কিভাবে ঘুরবেন দেখবেন– মরুভুমি, পাহাড়, পর্বত ও সবুজ বনভূমি এর উপর বিস্তৃত ২১ হাজার ১৯৬ কিলোমিটার লম্বা এই গ্রেট ওয়াল চায়না। বলা হয়ে থাকে এই প্রাচীরের প্রস্থ এতটাই চওড়া যে এর উপর প্রায় ১২ জোড়া ঘোড়া একসাথে দৌড়াতে পারবে। দূর থেকে দেখলে অনেকের কাছে এই প্রাচীরকে অনেকটা বাঁকানো সাপ বা ড্রাগনের মতো মনে হয়। প্রকৃতিভেদে প্রাচীরের ভিন্ন ভিন্ন সৌন্দর্য প্রকাশ পায়। বসন্তে নতুন সবুজ পাতা, ফুল ও রঙ্গিন প্রকৃতি প্রাচীরের চারপাশের পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তুলে। আর এখানে বেড়াতে আসলে হাইকিং করা অনেকটা এডভেঞ্চারের মতো। পর্যটকদের জন্য এই প্রাচীর দেখার ১০ টি ভাগ আছে।

১। মুতিয়ান্যু (Mutianyu)– বেইজিং থেকে ৭৩ কিলো দূরেগ্রেট ওয়ালের এই অংশে যেতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগবে। মূলত এই দিকের প্রাচীরের অংশ পুরোপুরি ভাবে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে আর তাই এই দিকে পর্যটকরা বেশী আসে। আর বাচ্চাদের নিয়ে ট্রাভেল করার ক্ষেত্রেও এই দিকটা বেশী নিরাপদ। এখানে ওয়াচ টাওয়ার ও বেশ কিছু দুর্গ দেখতে পারবেন। মুতিয়ান্যুতে ক্যাবল কার ও টবোগান (Toboggan) রাইডের সাথে সাথে হাইকিং এর ব্যবস্থাও রয়েছে।

২। বাদালিং (Badaling)– বেইজিং থেকে বাদালিং গ্রেট ওয়ালে যাওয়া বেশী সুবিধাজনক। এখানে ক্যাবল কারের মজা পাবেন আবার গ্রেট ওয়াল মিউজিয়ামও ঘুরে দেখতে পারবেন। বাদালিং ওয়ালের উত্তর দিক থেকে ওয়াচ টাওয়ার পর্যন্ত হাইকিং করার ব্যবস্থা আছে। তবে ভিড় এড়ানোর জন্য এখান থেকে গ্রেট ওয়ালে প্রবেশ না করে বরং মুতিয়ান্যু গ্রেট ওয়াল থেকে প্রবেশ করা ভালো।

৩। হুয়াংহুচেং (Huanghuacheng)– এই জায়গাতে টুরিস্ট কম যায় আর শহর থেকে যাতায়াত করাটাও কষ্ট সাধ্য। তবে এখানে চ্যালেঞ্জিং হাইকিং-এর সুযোগ আছে। প্রাচীরের কিছু অংশ পানির ভিতর ডুবে গিয়েছে। তাই এখানে লেকের মনোরম দৃশ্য ও দেখতে পারবেন।

৪। জুয়োংগুয়ান (Juyongguan)- বেইজিং থেকে এখানে যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক। এখানে হাইকিং করতে পারবেন আর কিছু দুর্গও দেখতে পারবেন।

৫। সিমাতাই (Simatai)– গ্রেট ওয়ালের শুধুমাত্র এই অংশই রাতে দেখার সুযোগ রয়েছে। মূলত সিমাতাই ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত। এখানে ক্যাবল কার, ব্যাটারি কার্টস ও বোটিং এর সুবিধা আছে।

৬। হুয়ানগ্যাগুয়ান (Huangyaguan)– এখানে প্রতি বছর মে মাসে “দা গ্রেট ম্যারাথন” অনুষ্ঠিত হয়। এখানে সাধারনত টুরিস্ট বাসে পাহাড়ের উপর দিয়ে ঘুরে বেড়াতেই বেশী ভালো লাগে।

৭। সাংহাই পাস (Shanhai Pass)– গ্রেট ওয়ালের শেষ অংশ যা সাগরের সাথে মিশেছে। প্রাচীরের এই অংশমূলত সীমান্ত প্রতিরক্ষক ছিল। এখানে পুরো ১ দিন সময় হাতে নিয়ে ঘুরে আসতে পারলে ভালো।

৮। জিনশানলিং (Jinshanling)– বেইজিং থেকে জিনশানলিং যেতে ২-৩ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। এখানের অর্ধেক অংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে তবে বাকি অংশ এখনো জঙ্গলে ঘেরা। জিনশানলিং থেকে সিমাতাই পর্যন্ত হাইকিং করতে পর্যটকরা অনেক পছন্দ করে।

৯। গুবেইকো (Gubeikou)– গ্রেট ওয়ালের এই অংশ বেশ বিপদজনক। পুরো জায়গা এখনো জঙ্গলে ঘেরা, এখানে কোন ধরনের পুনরুদ্ধারের কাজ করা হয়নি তাই এই অংশে পর্যটকদের যাওয়ার অনুমতি নেই।

১০। জিয়ানকো (Jiankou)

পর্যটকরা তাদের যাতায়াতের সুবিধা অনুযায়ী প্রাচীরের গুবেইকো ও জিয়ানকো অংশ বাদে যেকোনো ভাগ থেকে প্রাচীর ঘুরে দেখতে পারে।

পুরো জায়গাটা মিনি বাসে ঘুরে দেখতে জনপ্রতি ৩০ ডলার ( বাংলাদেশি টাকায় ২৫০০ টাকা) খরচ পড়বে। সাথে পর্যটকদের সুবিধার্থে দোভাষী (চাইনিজ ও ইংলিশ বলতে পারা) একজন গাইডও থাকবে।

চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে পাবলিক বাস বা প্রাইভেট গাড়িতে সরাসরি যেতে পারবেন গ্রেট ওয়াল চায়নাতে। পাবলিক ট্রান্সপোর্টে খরচ কম পড়বে। প্রাচীরের সকল অংশ এক স্থানে নয় তাই ভিন্ন ভিন্ন অংশে যাওয়ার পথ একেক রকম।

বাদালিং এ ট্রেনে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেইজিং এর হুয়াংতুডিয়ান
রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে বাদালিং যেতে হবে। আর বাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেইজিং এর দেশেংমেন
বাস স্টেশন থেকে ৮৭৭ নং বাসে বাদালিং যেতে হবে।

জিনশানলিং যেতে হলে বাস নং ৯৮০ তে উঠতে হবে যা মিয়ুন সিটিতে
থামে তারপর মিনি বাসে করে জিনশানলিং যেতে হবে।

প্রাচীরের কাছে থাকার জন্য বেশ ভালো মানের কিছু হোটেল আছে। অনেকে দিনে প্রাচীন ঘুরে রাতে বেইজিং শহরে থাকতে পছন্দ করে আবার অনেকে এই প্রাচীরের কাছের হোটেল গুলোতেই রাত্রিযাপন করে। প্রাচীরের কাছের হোটেলে থাকলে ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলি প্রাচীর দেখার সুযোগ হবে। যেমন- বেইজিং বাদালিং লিও গ্রেট ওয়াল, দা গ্রেট ওয়াল কোর্ট ইয়ার্ড হোস্টেল, ডিলাইট ইন, ইয়ুএলি জাওয়ে ভ্যালী গুস হাউজের (Yueli Xioye Gues house) মতো হোটেল গুলোতে থাকার খরচ একটু বেশী হবে। তবে ৩৫০০-৬৫০০ টাকার মধ্যে ২ জনের জন্য থাকার রুম পেয়ে যাবেন। প্রাচীর থেকে একটু দূরের হোটেল গুলোতে থাকলে খরচ কম হবে। অনেকের কাছে বেইজিং এ থাকাটা সুবিধাজনক মনে করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *