সিঙ্গাপুর ভ্রমন কথাঃ সাইদুল করিম

মাত্র ৪০ থেকে ৫০ বছরের ব্যাবধানে অনুন্নত তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ থেকে একটি পরিপূর্ণ উন্নত দেশে পরিণত হয়ে সিঙ্গাপুর একটি চমক সৃষ্টি করেছে। ১৯৬৫ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্ত সিঙ্গাপুর ছিল অগোছালো, নিয়ন্ত্রনহীন এবং সংঘাতে পরিপূর্ণ একটি দেশ। কিন্তু তাঁরা সেখানে থেমে থাকেনি। যুগোপযোগী পরিকল্পনা এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহনের মাধ্যমে তাঁরা আজ নিজেদের দেশকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে তা এখন বিভিন্নও দেশের পর্যটকদের কাছে এক দারুণ আকর্ষণের নাম

সমস্ত দুর্দশাকে পিছনে ফেলে সিঙ্গাপুর আজ পৃথিবীর ২২ তম ধনি দেশ। সিঙ্গাপুরের জীবন যাত্রার মান উন্নতির দিক থেকে এশিয়ার মধ্যে চতুর্থ। এখানকার ৮৩ শতাংশ মানুষই উন্নত হাউজিং এস্টেটে বসবাস করে। এসব পরিসংখ্যানই বলে দেয় যে সিঙ্গাপুর আজ ইউরোপের কোন উন্নত রাষ্ট্রের চাইতে কোন অংশে কম না।

উন্নত সিঙ্গাপুরের যে কয়েকটি বিষয় আপনাকে বেশী মুগ্ধ করবে তার মধ্যে একটি হল রাস্তা ঘাটে নারীদের অবাধ এবং নিরাপদ চলাচল। অত্যন্ত কার্যকর আইন আছে এই বিষয়ে। কোন পুরুষ যদি কোন নারির দিকে অশোভন দৃষ্টিও দেয়, তাহলে সেই নারী তখনি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারবে। তৎক্ষণাৎ এমন ভাবে ব্যাবস্থা নেয়া হবে যে ওই পুরুষ আর ওই অপরাধের পুনরাবৃত্তি করার সাহস করবে না। এসব ব্যাপার দেখার জন্যও নগরীর রাস্তা ঘাটে ছড়িয়ে থাকে অসংখ্য সাদা পোশাকের পুলিশ।

আরেকটি চমৎকার ব্যাপার হল এখানকার পরিচ্ছন্নতা। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি তা করে তাহলে তাকে শাস্তি  হিসেবে ১ দিন ওই এলাকার ঝাড়ুদারের দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক সেমিনারে অংশ নিতে হয়!

কখন বেড়াতে যাবেন সিঙ্গাপুর

দক্ষিণপূর্ব এশিয়াতে অবস্থানের কারণে সিঙ্গাপুরে তাপমাত্রা এবং আদ্রতা দুইই বেশী থাকে প্রায় সারা বছরই। একারণে বছরের যেকোনো সময়েই আপনি সিঙ্গাপুর ভ্রমণ করতে পারেন।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সবচাইতে বেশী পর্যটক সমাগম ঘটে সিঙ্গাপুর এ। এই সময় গেলে আপনি অনেক উৎসব এবং ইভেন্টে যোগ দিতে পারবেন। এর মধ্যে  বিখ্যাত সিঙ্গাপুর সেল ফেস্টিভাল ( বিক্রয় উৎসব) আর ফুড ফেস্টিভাল অন্যতম। ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল এই সময়ে ভিড় কম থাকে এবং আবহাওয়া বেশ নাতিশীতোষ্ণ থাকে। সিঙ্গাপুরে বর্ষাকাল থাকে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। যদি বৃষ্টি এড়াতে চান তাহলে এই সময়ে সিঙ্গাপুর ভ্রমণ না করাই ভাল হবে।

সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা

দেশের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে পরিচিত এই সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা। সাধারণ চিড়িয়াখানা থেকে এর পার্থক্য হল, এখানে বন্য প্রাণীরা খাঁচায় আবদ্ধ থাকেনা। তাদের জন্য বিশেষ ভাবে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তাঁরা সেখানে মুক্তভাবে বিচরন করে। একটি বন্য প্রাণীকে তাঁর উপযুক্ত পরিবেশে নিজের মত চড়ে বেড়াতে দেখার চাইতে চমৎকার আর কি হতে পারে। আপনার যদি বন্যপ্রাণী ফটোগ্রাফির শখ থাকে তাহলে তা ইচ্ছা মত মিটিয়ে নিতে পারবেন এখান থেকে। প্রতিবছর প্রায় ১.৬ মিলিয়ন দর্শনার্থী এই চিড়িয়াখানা দেখতে আসেন।

সময়সীমাঃ সকাল ৮.৩০ থেকে সন্ধ্যা ৬ টা

প্রবেশ মুল্যঃ প্রাপ্ত বয়স্ক – ২০ ইউ এস ডলার, শিশু ৩ ডলার।

ঠিকানাঃ ৮০ মান্দাই লেক রোড, সিঙ্গাপুর ৭২৯৮২৬

সিঙ্গাপুর
সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা। সুত্রঃ প্ল্যানেট রোভারস

মারলায়ন পার্ক

সিঙ্গাপুর যাবেন আর মেরিলিয়ন পার্ক দেখবেন না, এ হতেই পারে না। এই স্থাপনাটিকে সিঙ্গাপুরের গর্ব এবং প্রতিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মেরিলিয়ন এর মূর্তিটি ২৮ ফুট লম্বা। এর মাথা সিংহের এবং দেহ মাছের। এই মূর্তিটি দ্বারা সিঙ্গাপুরবাসি এটাই প্রমান করতে চায় যে মাছ ব্যাবসায়ি হিসেবে তাদের দেশের যে অতীত ইতিহাস, সেটা তাঁরা ভুলে যায়নি। এখান থেকে সমগ্র মেরিনা বে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। সব মিলিয়ে জায়গাটার পরিবেশ অনেক চমৎকার।

সিঙ্গাপুর
মারলায়ন পার্ক। সুত্রঃ ট্রাভেল ব্লগার

সিঙ্গাপুর ফ্লাইয়ার

সিঙ্গাপুরের অনন্য আকর্ষণগুলোর মধ্যে ফ্লাইয়ার অন্যতম। একে নির্দ্বিধায় পৃথিবীর বৃহত্তম নাগরদোলা বলা চলে। ২৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যায়ে নিরমিত ১৬৫ মিটার উচ্চতার এই নাগরদোলাটি ২০০৮ সালে জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। রাতের বেলা এই নাগরদোলায় চড়ে চমৎকার আলোকোজ্জ্বল সিঙ্গাপুরের ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য দেখার চাইতে রোম্যান্টিক আর কি হতে পারে! বিশেষ ব্যাবস্থায় আপনি ইচ্ছা করলে এই নাগরদোলায় থাকাকালীন অবস্থায় আপনার ডিনারটাও সেরে নিতে পারেন। এক কোথায় অপূর্ব কিছু অনুভুতি পাবেন এখানে।

সময়সীমাঃ সকাল ৮.৩০ থেকে রাত ১০.৩০

টিকিটঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ৩৩ ইউ এস ডলার, শিশু ২১ ইউ এস ডলার

ফ্যামেলি প্যাকেজঃ ৭৮ ইউ এস ডলার।

ঠিকানাঃ ৩০ র‍্যাফেলস এভিনিউ।

সিঙ্গাপুর ফ্লাইয়ার
সিঙ্গাপুর ফ্লাইয়ার। সুত্রঃ স্ট্রেইট টাইমস

সিঙ্গাপুর ইতিহাস যাদুঘর বা হিস্টোরি মিউজিয়াম

সিঙ্গাপুরের আরেকটি চমৎকার দেখার মত জায়গা হল এর ইতিহাস যাদুঘর। সিঙ্গাপুরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে হলে এই যাদুঘর দেখার বিকল্প নেই। চমৎকার মার্বেল পাথরে বাঁধানো সাদা রঙের একটি প্রাসাদের ভিতর এই জাদুঘরটি অবস্থিত। এখানে শুধু সিঙ্গাপুর না, বরং এশিয়ার বিভিন্নও দেশের ও সময়ের ঐতিহাসিক উপাদান যত্নসহকারে সংরক্ষিত আছে।  বাচ্চাদের জন্য তাদের উপযোগী করে তৈরি করা আলাদা সেকশনও আছে।

সময়সীমাঃ সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা

টিকিটঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ ইউ এস ডলার, শিশু, ছাত্র ছাত্রী ও বৃদ্ধ – ৫ ইউ এস ডলার

ঠিকানাঃ ৩০ মার্চেন্ট রোড, রিভার সাইড পয়েন্ট।

সিঙ্গাপুর মিউজিয়াম
সিঙ্গাপুর হিস্টোরি মিউজিয়াম। সুত্রঃ টাইম আউট

চায়না টাউন

বিচিত্র কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায়না টাউন ঘুরে আসতে পারেন। অন্যান্য দেশের চায়না টাউনের মত এখানকার চাইনিজরাও অনেক আমুদ প্রিয়। ছোট ছোট অনেক দোকান পাবেন বিভিন্নও ধরনের মাল্ পত্রে ঠাসা। এখানে ঘুরতে ঘুরতে চাইনিজ হেরিটেজ সেন্টার টা দেখে ফেলতে পারেন। দেখতে পারেন চমৎকার শ্রী মারিয়াম্মান মন্দির।

বুদ্ধের দন্ত সংরক্ষিত যাদুঘর বা টুথ রেলিক মিউজিয়াম

সিঙ্গাপুরে অবস্থিত চায়না টাউনের কেন্দ্রস্থলে এই বিখ্যাত মন্দির ও যাদুঘরটি অবস্থিত। এই মন্দিরের চতুর্থ তলার অভ্যান্তরে ৩২০ কিলোগ্রাম সোনার স্তুপের উপর মহামতি বুদ্ধের একটি দাঁত সংরক্ষিত আছে। এটি দর্শনার্থীদের দেখার জন্যও উম্মুক্ত। প্রতি বছর হাজার হাজার বৌদ্ধ এখানে আসে। বৌদ্ধ ছাড়াও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও আসেন নির্দ্বিধায়। নিচতলায় দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে শাকাহার করানো হয়।

সময়সীমাঃ সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা

প্রবেশমুল্যঃ বিনামূল্যে।

সিঙ্গাপুর টুথ রেলিক মিউজিয়াম
টুথ রেলিক মিউজিয়াম। সুত্রঃ উইকিপিডিয়া

গার্ডেনস বাই দ্য বে

মেরিনা রিজারভেয়ারের একদম পাশেই ২৫০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে গার্ডেনস বাই দ্য বে নামের বিশাল এই পার্ক। তিনটি বৃহৎ ওয়াটার ফ্রন্ট বাগান নিয়ে এই বিশাল পার্ক গড়ে উঠেছে। এখানে হাজার প্রজাতির বিভিন্ন গাছ পালা ও লতা গুল্মের সমাহার আপনাকে মুগ্ধ করবে। শহুরে পরিবেশে যদি ক্লান্ত অনুভব করেন, তাহলে এখানকার শান্ত সবুজ পরিবেশে এসে দেহ মনকে সতেজ করে নিতে পারেন।

সময়সীমা সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা

প্রবেশ মুল্যঃ ২৮ ইউ এস ডলার

ঠিকানাঃ ১৮, মেরিনা গার্ডেনস ড্রাইভ।

সিঙ্গাপুর গার্ডেনস বাই দ্য বে
গার্ডেনস বাই দ্য বে। সুত্রঃ লোকো ট্রাভেলস

র‍্যাফেলস হোটেল

এই হোটেলটি সিঙ্গাপুরের সবচাইতে পুরাতন ভবনগুলোর মধ্যে অন্যতম। হোটেলটি স্থাপিত হয় ১৮৮৭ সালে। অনেক বিখ্যাত ব্যাক্তি এই হোটেলে থেকেছেন বিভিন্নও সময়ে। এর মধ্যে আছেন রুডইয়ার্ড কিপ্লিং, জোসেফ কনরাড, চারলি চ্যাপলিন এবং আরও অনেকে। এই হোটেলের সাথে সিঙ্গাপুরের অনেক ঐতিহ্য জড়িত। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এই হোটেল আজ সিঙ্গাপুরের সংস্কৃতির একটা অংশই হয়ে গেছে বলা যায়। এত দিন পরেও এই হোটেলটি এখনও চমৎকার সেবা দিয়ে যাচ্ছে। খাবার দাবারও অনেক মানসম্মত। তাই এখানে এলে এক ঢিলে অনেক পাখিই মারতে পারবেন।

সিঙ্গাপুর র‍্যাফেলস হোটেল
র‍্যাফেলস হোটেল। সুত্রঃ ফ্যামস ওয়ান্ডারস

সেন্তোসা আইল্যান্ড

সিঙ্গাপুর সৈকতের জন্যও খুব একটা বিখ্যাত না। কিন্তু এর পরও যদি আপনার সৈকতে সময় কাটাতে ইচ্ছা করে সেক্ষেত্রে সেন্তোসা আইল্যান্ড একটা চমৎকার গন্তব্যও হবে। জল এবং স্থল উভয় পথেই এই ছোট দ্বিপে যেতে পারবেন। এখানকার সিলোসো সৈকত বেশ চমৎকার। এখানেই পাবেন বিখ্যাত মেরিলন এর মূর্তি। আরও দেখবেন সিলোসো দুর্গ এবং ইউনিভার্সাল স্টুডিও সিঙ্গাপুর।

সিঙ্গাপুর সেন্তোসা আইল্যান্ড
সেন্তোসা আইল্যান্ড। সুত্রঃ Issatis

সিঙ্গাপুর ফ্লাইয়ার

সিঙ্গাপুরের অনন্য আকর্ষণগুলোর মধ্যে ফ্লাইয়ার অন্যতম। একে নির্দ্বিধায় পৃথিবীর বৃহত্তম নাগরদোলা বলা চলে। ২৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যায়ে নিরমিত ১৬৫ মিটার উচ্চতার এই নাগরদোলাটি ২০০৮ সালে জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। রাতের বেলা এই নাগরদোলায় চড়ে চমৎকার আলোকোজ্জ্বল সিঙ্গাপুরের ৩৬০ ডিগ্রি দৃশ্য দেখার চাইতে রোম্যান্টিক আর কি হতে পারে! বিশেষ ব্যাবস্থায় আপনি ইচ্ছা করলে এই নাগরদোলায় থাকাকালীন অবস্থায় আপনার ডিনারটাও সেরে নিতে পারেন। এক কোথায় অপূর্ব কিছু অনুভুতি পাবেন এখানে।

সময়সীমাঃ সকাল ৮.৩০ থেকে রাত ১০.৩০

টিকিটঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ৩৩ ইউ এস ডলার, শিশু ২১ ইউ এস ডলার

ফ্যামেলি প্যাকেজঃ ৭৮ ইউ এস ডলার।

ঠিকানাঃ ৩০ র‍্যাফেলস এভিনিউ।

সিঙ্গাপুর ইতিহাস যাদুঘর বা হিস্টোরি মিউজিয়াম

সিঙ্গাপুরের আরেকটি চমৎকার দেখার মত জায়গা হল এর ইতিহাস যাদুঘর। সিঙ্গাপুরের ইতিহাস ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে হলে এই যাদুঘর দেখার বিকল্প নেই। চমৎকার মার্বেল পাথরে বাঁধানো সাদা রঙের একটি প্রাসাদের ভিতর এই জাদুঘরটি অবস্থিত। এখানে শুধু সিঙ্গাপুর না, বরং এশিয়ার বিভিন্নও দেশের ও সময়ের ঐতিহাসিক উপাদান যত্নসহকারে সংরক্ষিত আছে।  বাচ্চাদের জন্য তাদের উপযোগী করে তৈরি করা আলাদা সেকশনও আছে।

সময়সীমাঃ সকাল ১০ টা থেকে রাত ৮ টা

টিকিটঃ প্রাপ্ত বয়স্ক ১০ ইউ এস ডলার, শিশু, ছাত্র ছাত্রী ও বৃদ্ধ – ৫ ইউ এস ডলার

ঠিকানাঃ ৩০ মার্চেন্ট রোড, রিভার সাইড পয়েন্ট।

সিঙ্গাপুর মিউজিয়াম
সিঙ্গাপুর হিস্টোরি মিউজিয়াম। সুত্রঃ টাইম আউট

চায়না টাউন

বিচিত্র কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায়না টাউন ঘুরে আসতে পারেন। অন্যান্য দেশের চায়না টাউনের মত এখানকার চাইনিজরাও অনেক আমুদ প্রিয়। ছোট ছোট অনেক দোকান পাবেন বিভিন্নও ধরনের মাল্ পত্রে ঠাসা। এখানে ঘুরতে ঘুরতে চাইনিজ হেরিটেজ সেন্টার টা দেখে ফেলতে পারেন। দেখতে পারেন চমৎকার শ্রী মারিয়াম্মান মন্দির।

বুদ্ধের দন্ত সংরক্ষিত যাদুঘর বা টুথ রেলিক মিউজিয়াম

সিঙ্গাপুরে অবস্থিত চায়না টাউনের কেন্দ্রস্থলে এই বিখ্যাত মন্দির ও যাদুঘরটি অবস্থিত। এই মন্দিরের চতুর্থ তলার অভ্যান্তরে ৩২০ কিলোগ্রাম সোনার স্তুপের উপর মহামতি বুদ্ধের একটি দাঁত সংরক্ষিত আছে। এটি দর্শনার্থীদের দেখার জন্যও উম্মুক্ত। প্রতি বছর হাজার হাজার বৌদ্ধ এখানে আসে। বৌদ্ধ ছাড়াও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও আসেন নির্দ্বিধায়। নিচতলায় দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে শাকাহার করানো হয়।

সময়সীমাঃ সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা

প্রবেশমুল্যঃ বিনামূল্যে।

সিঙ্গাপুর টুথ রেলিক মিউজিয়াম
টুথ রেলিক মিউজিয়াম। সুত্রঃ উইকিপিডিয়া

গার্ডেনস বাই দ্য বে

মেরিনা রিজারভেয়ারের একদম পাশেই ২৫০ একর জায়গা নিয়ে গড়ে উঠেছে গার্ডেনস বাই দ্য বে নামের বিশাল এই পার্ক। তিনটি বৃহৎ ওয়াটার ফ্রন্ট বাগান নিয়ে এই বিশাল পার্ক গড়ে উঠেছে। এখানে হাজার প্রজাতির বিভিন্ন গাছ পালা ও লতা গুল্মের সমাহার আপনাকে মুগ্ধ করবে। শহুরে পরিবেশে যদি ক্লান্ত অনুভব করেন, তাহলে এখানকার শান্ত সবুজ পরিবেশে এসে দেহ মনকে সতেজ করে নিতে পারেন।

সময়সীমা সকাল ৯ টা থেকে রাত ৯ টা

প্রবেশ মুল্যঃ ২৮ ইউ এস ডলার

ঠিকানাঃ ১৮, মেরিনা গার্ডেনস ড্রাইভ।

সিঙ্গাপুর গার্ডেনস বাই দ্য বে
গার্ডেনস বাই দ্য বে। সুত্রঃ লোকো ট্রাভেলস

র‍্যাফেলস হোটেল

এই হোটেলটি সিঙ্গাপুরের সবচাইতে পুরাতন ভবনগুলোর মধ্যে অন্যতম। হোটেলটি স্থাপিত হয় ১৮৮৭ সালে। অনেক বিখ্যাত ব্যাক্তি এই হোটেলে থেকেছেন বিভিন্নও সময়ে। এর মধ্যে আছেন রুডইয়ার্ড কিপ্লিং, জোসেফ কনরাড, চারলি চ্যাপলিন এবং আরও অনেকে। এই হোটেলের সাথে সিঙ্গাপুরের অনেক ঐতিহ্য জড়িত। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এই হোটেল আজ সিঙ্গাপুরের সংস্কৃতির একটা অংশই হয়ে গেছে বলা যায়। এত দিন পরেও এই হোটেলটি এখনও চমৎকার সেবা দিয়ে যাচ্ছে। খাবার দাবারও অনেক মানসম্মত। তাই এখানে এলে এক ঢিলে অনেক পাখিই মারতে পারবেন।

সিঙ্গাপুর র‍্যাফেলস হোটেল
র‍্যাফেলস হোটেল। সুত্রঃ ফ্যামস ওয়ান্ডারস

যাতায়ত– সিঙ্গাপুরে দেশটা সব দিক দিয়ে একটু Expensive তাই সেই হিসেবে এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ক্ষেত্রে ট্যাক্সি ভাড়া অনেক হাই। ট্যুর মেম্বার বেশি হলে গ্রেভ ব্যবহার করা যায় যাতায়াত এর ক্ষেত্রে। গ্রেভ ভাড়া ট্যাক্সি অনুযায়ী অনেকটা কম। এছাড়া লং টাইমের জন্য ঘুরতে গেলে এমআরটির ব্যবহার করাটা সাশ্রয়ী। প্রথম বার একটু ঝামেলা হতে পারে কিন্তু একবার ব্যবহার করার পরই আপনি নিজেই কমফোর্টেবল ফিল করবেন। সিঙ্গাপুরে দেশটা সব দিক দিয়ে একটু Expensive তাই সেই হিসেবে এখানে যাতায়াত ব্যবস্থা ক্ষেত্রে ট্যাক্সি ভাড়া অনেক হাই।

ট্যুর মেম্বার বেশি হলে গ্রেভ ব্যবহার করা যায় যাতায়াত এর ক্ষেত্রে। গ্রেভ ভাড়া ট্যাক্সি অনুযায়ী অনেকটা কম। এছাড়া লং টাইমের জন্য ঘুরতে গেলে এমআরটির ব্যবহার করাটা সাশ্রয়ী। প্রথম বার একটু ঝামেলা হতে পারে কিন্তু একবার ব্যবহার করার পরই আপনি নিজেই কমফোর্টেবল ফিল করবেন। তবে এমআরটির টিকেট মেশিন থেকে কাটতে হয় এবং টিকেট কাটার মেশিনের পাশেই এবং ডিসপ্লেতে কিভাবে কোথায় কোন রুট দিয়ে ট্রেন যাবে তার ম্যাপ খুব সহজ ভাবে দেয়া আছে। তাই প্রথম প্রথম তাড়াহুড়ো না করে দেখে বুঝে টিকেট কাটবেন। নরমালী টিকেট কাটার সময় মেশিনে আটো রিটার্ন জার্নি দেয়া থাকে। বাট সিঙ্গেল জার্নির অপশনও আছে। এছাড়া এদের স্মার্ট বাস সার্ভিস আছে এবং এসব বাসে লং টাইমের জন্য বার বার জার্নি করার জন্য এক বারে একটা কার্ড নিদিষ্ট টাকায় কিনতে পাওয়া যায়। একি টাইপের কার্ড এমআরটির জন্যও পাওয়া যায়।

মোবাইল সিম– Singtel আর M1 এই দুইটা সিম সাধারনত টুরিস্টরা ব্যবহার করেন। অনলাইনে বুক দিয়ে এয়ারপোর্টে থেকে সংগ্রহ করা যায়। এছাড়া মোস্তফা সেন্টারের আশেপাশের রাস্তাতেই সিম পাওয়া যাবে। দাম পড়বে ৮ সিঙ্গাপুরিয়ান ডলার। Singtel Hi Prepaid সিম কার্ড, ১.৫ জিবি ইন্টারনেট, ৩০ দিন মেয়াদ। ব্যালেন্স রিচার্জ করা যায়। hi! Tourist SIM card ১২ দিনের মেয়াদ আর ১০০ জিবি ডাটাসহ ৩০ সিঙ্গাপুর ডলার।

খাওয়া দাওয়া-সিঙ্গাপুরে পৃথিবীর প্রায় সব দেশেরই প্রচুর টুরিস্ট প্রতি বছর আসা যাওয়া করে। তাই এখানে সকল অঞ্চলের খাবার পাওয়া যায়। আমরা যারা হালাল ফুড নিয়ে চিন্তায় থাকি তারাদের জন্য লিটেল ইন্ডিয়া প্লেসটি এসব কমন চিন্তা মুক্তির একটা প্লেস। এখানে প্রচুর হালাল ফুড সহ বাংলাদেশী অনেক ভাল মানের রেস্টুরেন্টে আছে। এখানে ঢাকায় নির্দিষ্ট কিছু রেস্টুরেন্টে ছাড়া বাংলা যে সব ফুড পাওয়া যায় না, সে সব ফুডও খুব সহজেই আপনি বাজেটের ভিতর পেয়ে যাবেন। যেমন বিভিন্ন দেশী মাছ, গরুর বিভিন্ন আইটেম, দইসহ দেশীয় ডেজার্ট পর্যন্ত পাবেন। এছাড়া পাকিস্তানি তুর্কি রেস্টুরেন্টে গুলোতে কাবাব আইটেম পাবেন সিঙ্গাপুর অনুযায়ী বেশ সস্তায়। একজন মানুষ সিঙ্গাপুরের ৪/৫ ডলারে বেশ ভাল ভাবেই প্রতি বেলায় খেতে পারবে এই খাটি বাংলা রেস্টুরেন্টের গুলোতে। এছাড়া লিটেল ইন্ডিয়া এরিয়াতে বেশকিছু স্ট্রিট ফুডও পাবেন একটু ঘুরাঘুরি করলেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *